নেপালের কাঠমান্ডুতে ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে অর্ধেকই বাংলাদেশি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভয়াবহ এ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন, আহত ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পীকার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে সোমবার দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ৭১ জন আরোহী নিয়ে রওনা দেয় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি। দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু ত্রিভূবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।
নেপালের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক সঞ্জীব গৌতম জানান, রানওয়েতে অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এটি দক্ষিণ দিকে নামার কথা থাকলেও উত্তর দিক দিয়ে নেমে যায়। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।
সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ত্রিভূবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নেপাল সেনাবাহিনী। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ জন পাইলট, ২ জন ক্রু ও ৬৭ জন যাত্রী ছিলেন বিমানটিতে। তাদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, ১ জন চীন ও ১ জন মালদ্বীপের। আহতদের উদ্ধার করে নেপালের ৪ টি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ত্রিভূবন বিমান বন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে, বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিমানবন্দরটি।
ঘটনা তদন্তে সিভিল এভিয়েশনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনা তদন্তে নেপাল যাবে তদন্ত কমিটি।