সিরিয়ার দৌমায় রাসায়নিক হামলার জন্য বাশার আল আসাদের বাহিনীকে দায়ী করে দেশটির কয়েকটি রাসায়নিক অস্ত্র স্থাপনায় একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স। এ হামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে রাশিয়া ও ইরান। এদিকে, সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
গত ৭ এপ্রিল বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংবাদমাধ্যম সিরিয়ায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত কয়েকটি দাতব্য সংস্থার বরাত দিয়ে দৌমায় রাসায়নিক হামলার খবর প্রকাশ করে। এরপর বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেখানে ৪৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানায়, বিষয়টি বিষাক্ত রাসায়নিক হামলা।
দৌমায় আরও পাঁচশতাধিক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। এবছর জানুয়ারি থেকে সিরিয়া ও তাদের মিত্রবাহিনীগুলো বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব গৌতায় সেনা অভিযান শুরু করে। তাদের আক্রমণে বেশিরভাগ বিদ্রোহীগোষ্ঠী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
আর এ রাসায়নিক হামলার জন্য বাশার আল আসাদের বাহিনীকে দায়ী করে স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে দেশটির তিনটি রাসায়নিক অস্ত্র স্থাপনায় একযোগে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার প্রথম প্রহরে হোয়াইট হাউজ থেকে এই আক্রমণ শুরুর ঘোষণা দেন, যার হুঁশিয়ারি তিনি আগেই দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানায়, তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- হামলার লক্ষস্থলগুলোর মধ্যে রয়েছে দামেস্কের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা স্থাপনা, যা রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া রয়েছে হোমসের পশ্চিমে রাসায়নিক অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং রাসায়নিক অস্ত্রের সরঞ্জাম মজুদ রাখার স্থাপনা ও একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পোস্ট।
সমন্বিত এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে বলেছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
এ হামলায় ফ্রান্সের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানিউয়েল ম্যাখোঁ।
এদিকে, সিরিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়া এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন বলে অভিহিত করে বলেছে, এ ধরনের আক্রমনের প্রতিক্রিয়া অবশ্যই পাওয়া যাবে। ইরানও এই হামলার পরিণতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।