সশস্ত্র সংঘাতের সময় যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে এ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের কালো তালিকায় উঠে এসেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নাম। নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের তৈরি করা একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানায়।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে মিয়ানমার বাহিনীর যৌন সহিংসতা একটি কৌশল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এ কালো তালিকাভুক্তির ফলে কি হবে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
২০১৬ সালের অক্টোবরে মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ চৌকিতে রোহিঙ্গাদের হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত হলে বড় ধরনের দমন অভিযানে নামে দেশটির সেনাবাহিনী।
এতে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযানের মুখে ওই সময় প্রায় ৮৭ হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।
এরপর গত বছরের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বেশ কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী। হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে তাদের ওপর আবারো নির্বিচারে নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
এরপর থেকেই রাখাইন ও আরকান রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখেরও বেশি।
এ যুদ্ধ-সংঘাতের সময় ধর্ষণসহ অন্যান্য যৌন সহিংসতার দায়ে জাতিসংঘের কালো তালিকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নাম উঠেছে। মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এক প্রতিবেদনে এ তালিকাটি উপস্থাপন করা হয়।
এতে বলা হয়, ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী স্থানীয় মিলিশিয়াদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানোর সময় যৌন সহিংসতা ঘটিয়েছে। নানা শারীরিক ও মানসিক ক্ষত নিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
এ ধরনের যৌন সহিংসতা ওই অভিযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। হুমকি ও ভয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা এবং ফেরা ঠেকানো এর উদ্দেশ্য ছিল।
প্রতিবেদনে কালো তালিকায় সরকারি, বিদ্রোহী ও উগ্রবাদী ৫১টি গোষ্ঠীর নাম রয়েছে।