কিউবায় দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যাস্ত্রো পরিবারের শাসনামলের অবসান হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে পদত্যাগ করছেন কিউবান বিপ্লবের অন্যতম নেতা রাউল ক্যাস্ত্রো। প্রায় এক দশক প্রেসিডেন্ট থাকার পর ক্ষমতা ছাড়ছেন তিনি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে হাভানার জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে রাউল কাস্ত্রো ঘোষণা দেন, তিনি ২০১৮ সালের ১৯শে এপ্রিল পদত্যাগ করবেন।
অধিবেশনে তিনি বলেন, নতুন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি গঠনের পর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে আমার দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের পরিসমাপ্তি ঘটবে। কিউবা একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাবে।
১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ফুলজেন্সিও বাতিস্তা ছিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। বাতিস্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের মধ্য দিয়েই কিউবার ক্ষমতা দখল করেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। বামপন্থী বিপ্লবের মাধ্যমে ১৯৫৯ সালে কিউবার ক্ষমতায় আসেন ফিদেল কাস্ত্রো। সামরিক শাসক জেনারেল বাতিস্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরের পাঁচ দশক কিউবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন তিনি।
কিউবাকে ‘সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেন ফিদেল। যুক্তরাষ্ট্রের ধনীদের অবকাশ যাপনের বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে থাকা দেশটিকে রূপান্তর করেন সমৃদ্ধ ভূমিতে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ‘একনায়ক’ হলেও ফিদেল সারাবিশ্বে সমাজতন্ত্রের পথের সংগ্রামীদের কাছে তিনি বীর বিপ্লবী।
শারিরীক অসুস্থতার কারণে ২০০৮ সালে ভাই রাউলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। কিউবা বিপ্লবের শুরুর দিনগুলো থেকেই ফিদেল ক্যাস্ত্রোর পাশে ছিলেন ছোট ভাই রাউল ক্যাস্ত্রো। ফিদেল ক্ষমতায় থাকার সময় রাউল প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।