উত্তর কোরিয়া সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-- সেই সঙ্গে একটি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্রও বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নেতা কিম জং-উন।
শনিবার কিমের বরাত দিয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আজ- শনিবার থেকে উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা এবং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রাখবে।
এর কারণ হিসেবে কেসিএনএ জানিয়েছে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছে উত্তর কোরিয়া তাই আর এ অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর প্রয়োজন নেই।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের সঙ্গে বহুল আলোচিত সাক্ষাতের এক সপ্তাহ আগে এ ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ং বেশ কয়েকটি পরমাণু অস্ত্র ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছিল।
গত নভেম্বরে উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দেয়, দেশটি এমন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানা সম্ভব। পশ্চিমা দুনিয়া ওই পরীক্ষার তীব্র নিন্দা জানায়।
সম্প্রতি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের মধ্যে টেলিফোন হটলাইন স্থাপিত হয়।
এছাড়া, দুই চির শত্রুভাবাপন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা আগামী সপ্তাহে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলে তা হবে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।
এছাড়া, কিম জং-উন আগামী জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তা হবে আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসি দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।