রাখাইনে সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পক্ষে আবারো সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
রোহিঙ্গাদের প্রতি ভয়াবহ নৃশংসতার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো ধরনের সামরিক সম্পর্ককে অসমর্থনযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন বিশ্ব নেতারা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সময় থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনকে মৃত্যুকূপ বানিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিরোস্লাভ লাইচ্যাকের ডাকে মিলিত হন ১৩১টি দেশ ও সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
'শান্তি বিনির্মাণ ও টেকসই শান্তি' শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর ভয়াবহ নৃশংসতার পরও মিয়ানমারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক সম্পর্ক অসমর্থনযোগ্য বলে সতর্ক করেছেন অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির নেতা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস।
আর সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট দ্য বর্ডার বলেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে প্রাধান্যশালীতায় নিতে ব্যর্থ হয়েছে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার। সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সময় থেকে উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনকে সংবাদ ও তথ্যের মৃত্যুকূপ বানিয়েছে মিয়ানমার।
চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট-আসিয়ানের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না অং সান সুচি। বুধবার শুরু হওয়া ৩২তম সম্মেলনের শেষ দিন শনিবার সেখানে প্রতিনিধিত্ব করবেন গত মাসে শপথ নেওয়া প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট।
এদিকে, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ডধারী রোহিঙ্গাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিরোধিতা করছে মিয়ানমারের বিরোধীদলগুলো।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বিরোধীদল ইউএসডিপি জানিয়েছে, কার্ডধারী রোহিঙ্গাদের মুক্ত চলাচলের অধিকার দেয়া হলে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক হবে। সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তোলা হবে জানানো হয়।