ছয় দশকেরও বেশি সময় পর এ প্রথম বৈঠক করলেন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া দুই শীর্ষ নেতা। ঐতিহাসিক এ বৈঠকে বসেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন।
বৈঠক শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মুন জায়ে ইনের মুখপাত্র বলেন, বৈঠক বন্ধুত্বপূর্ণ ও আনন্দদায়ক হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে দুই দেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম পানপুনজমে ঐতিহাসিক মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সঙ্গে হাসিমুখে করদর্মন করেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন।
পরে পানপুনজমের পিস হাউসে বৈঠকে বসেন তারা। বৈঠক শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের মুখপাত্র বলেন, দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও আনন্দদায়ক আলোচনা হয়েছে।
মুন আশা করছেন, এ বৈঠকের কারণে ভবিষ্যতে পিয়ংইয়ংয়েও আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। আর কিম বলেছেন, সংঘাতের ইতিহাস মোছনের জন্য এটি ঐতিহাসিক সফর।
আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এ আলোচনা চলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত। বিরতিতে দুই নেতা নিজেদের দেশে ফিরে যান। মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেলে দুই নেতা দুই কোরিয়ার মাটি ও পানি ব্যবহার করে একটি পাইন গাছের চারা রোপন করবেন।
পরে দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসবেন দুই নেতা। সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আলোচনা। এরপর দুই নেতা দক্ষিণ কোরিয়ায় রাতের খাবারে অংশ নেয়ার আগে একটি যৌথ বিবৃতি দেবেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় পানপুনজমে পৌঁছলে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উনকে স্বাগত জানান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। পরে সেখানে স্থাপিত বিশেষ মঞ্চে যান দুই নেতা। এ সময় তাদের গার্ড অব অনার জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল।
১৯৫৩ সালে কোরিয়া যুদ্ধ অবসানের ৬৫ বছর পর এবারই প্রথম কোনো উত্তর কোরিয়া কোনো রাষ্ট্রনায়ক আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় গেলেন। এর আগে দুই কোরিয়ার নেতারা দুই বার আলোচনায় বসেছিলেন।