জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলটি আজ (মঙ্গলবার) রাখাইন সফর করছে। তারা রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম ও শরণার্থীদের জন্য তৈরি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে যাবেন। পাশাপাশি তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এর আগে সোমবার রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সেনা নেতৃত্বের বিপরীতমুখী অবস্থান দেখলেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা।
তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তার সরকার তৈরি। প্রত্যাবাসনে গতি আনতে বাংলাদেশের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে, দেশটির সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং অভিযোগ করেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে রাখাইনের 'সংকট জটিল' হয়েছে। সোমবার নেপিদোতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তারা।
রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করলেন মিয়ানমারের নেত্রী অংস সান সু চি। নিরাপত্তা পরিষদের ৩০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি রাজধানী নেপিদোতে পৌঁছার পর স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে ওই বৈঠক হয়।
বৈঠকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তার সরকার তৈরি। তবে প্রত্যাবাসনে গতি আনতে বাংলাদেশের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে, দেশটির সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং রাখাইনে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ ও ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বরং অভিযোগ করেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে রাখাইনের 'সংকট জটিল' হয়েছে।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সেনা নেতৃত্বের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রোহিঙ্গা সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এদিকে, গুস্তাভো মেজা কোয়াদ্রার নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদলটি মং্গলবার রাখাইন পরিদর্শন করে। তারা রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম ও শরণার্থীদের জন্য তৈরি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে যায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন রাখাইন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে শনিবার বাংলাদেশে আসে নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রতিনিধিদলটি। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সোমবার দুপুরে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে তারা।