মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে দেশটিকে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ক্যারেন পিয়ার্স।
মঙ্গলবার এ সংকটের মূল উদঘাটন করার আহ্বান জানান তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে চার দিনের সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের হয়ে এসব কথা বলেন ক্যারেন পিয়ার্স।
তিনি বলেন, দায়ীদের শাস্তি দিতে অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন— স্থানীয় হোক কিংবা আন্তর্জাতক দোষীদের শাস্তি পেতেই হবে।
এ তদন্ত মিয়ানমার কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যম হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তবে এ প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের একাগ্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
বার্মা হিউমান রাইটস নেটওয়াকের প্রতিষ্ঠাতা কিয়াও উইন বলেন, ‘দোষীদের দায়ী করা অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিরাপত্তা পরিষদ সেনাবাহিনীর শীর্ষপর্যায়ে এটি প্রয়োগ করতে অনিচ্ছুক।’
তিনি আরো বলেন, দোষীদের খুঁজে বের না করায় এটি তাদের ভুল বার্তা দিচ্ছে—তারা বুঝতে পারছে যে অন্যায় করেও পার পাওয়া যাবে।
গত শনিবার ঘটনা তদন্তে ও রাখাইন পরিদর্শনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল।
ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুয়েত থেকে বিমানযোগে সরাসরি বাংলাদেশের কক্সবাজার বিমান বন্দরে পৌঁছান ৩০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল।
রোববার সকালে তমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ড পরিদর্শন করেন তারা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তারা মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এরপর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং শীর্ষ জেনারেল মিন অং হ্লাং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদল।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’বলে আখ্যা দিয়েছে। রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।