আন্তর্জাতিক

নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবে না রোহিঙ্গারা: মিয়ানমার সেনাপ্রধান

মিন অং হলাইং
মিন অং হলাইং

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যত দিন তাদের জন্য তৈরি ‘আদর্শ গ্রামে’ থাকবে, তত দিন তারা নিরাপদ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হলাইং।

শনিবার এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৩০ এপ্রিল মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দেশটিতে সফররত জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সেনাপ্রধান মিন অং হলাইং এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধানের এ বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ফিরে যাওয়ার পর স্থায়ী বসত নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এএফপি জানায়, এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ একে জাতিগত নিধন বলছে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার গত বছরেই রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে রাজি হয় তবে নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার মতো মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা না পেলে মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হচ্ছে না রোহিঙ্গারা।

শনিবার মিন অং হলাইং ফেসবুক পেজ থাকা জানা যায়, সফররত জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্ট করা এলাকার মধ্যে থাকলেই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না।’

মিন অং হলাইং রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে মন্তব্য করে বলেন রাখাইনে দীর্ঘদিন বাস করলেও তারা কখনো মিয়ানমারের জাতিসত্তা ছিল না।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যা, আগুনে পোড়ানো ও ধর্ষণের যে মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিয়েছেন, এসব অভিযোগে সন্দেহ প্রকাশ করে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এসব বর্ণনাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলেছেন।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘বাঙালিরা কখনোই বলবে না যে সেখানে খুশিমনে গেছে— তাদের অনেক কষ্ট হয়েছে বা তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে—এমন কথা বলে তারা সহানুভূতি আদায় করবে।

জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমার যতই কম করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুতির কথা বলুক, এখনো তাদের ফিরিয়ে নেয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

মিয়ানমার সেখানে যে অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করছে, তাতে এক লাখের মতো মানুষের জায়গা হবে। এ ছাড়া খুব কমসংখ্যক নতুন বাড়ি তৈরি করেছে, যেখানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা যেতে পারে।

কয়েক দশক ধরেই মিয়ানমারে সংখ্যালঘু হিসেবে বাস করছে রোহিঙ্গারা। তাদের সেখানে মানবাধিকার পরিস্থিতি খুব নাজুক বলেই বর্ণনা করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশিচৌকিতে সন্ত্রাসী হামলা এই সংকটকে নতুন করে উসকে দেয়। এর জেরে সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়, চলে দমন-পীড়ন। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

ইমরান খানকে সংসদ সদস্য পদের অযোগ্য ঘোষণা

কংগ্রেসের নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত

ঘুষ নেওয়ার দায়ে সু চির আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড

আয়ারল্যান্ডের পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরণ, নিহত ১০

থাইল্যান্ডে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

নজিরবিহীন ধাক্কার কবলে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়া : বিশ্বব্যাংক

থাইল্যান্ডে দিবাযন্ত্র কেন্দ্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩৪

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ