রোহিঙ্গা নিপীড়নের দায়ে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটি আইনটিতে অনুমোদন দিয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৯ মাসে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।
বাংলাদেশের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩০০ অন্তঃসত্ত্বা রোহিঙ্গা নারীকে তারা সনাক্ত করেছেন। রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর গত নভেম্বরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
রাখাইনে গ্রামে গ্রামে মিয়ানমারের সৈন্যরা হত্যা, লুটপাট, জ্বালাও পোড়াওয়ের পাশপাশি ব্যাপক হারে যে যৌন সহিংসতা চালাচ্ছে তার ভয়ঙ্কর বিবরণ উঠে আসে সেখানে।
রোহিঙ্গা নিপীড়নের দায়ে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্র।দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটি আইনটিতে অনুমোদন দিয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে শক্ত বার্তা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এই আইন পাস। মিয়ানমার সরকারকে,নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া, ত্রাণ সহায়তায় আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার এবং রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ওকে মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ মিয়ানমারকে যে ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা দিয়েছিল সেখান থেকে ১ হাজার ১০১ জনকে ফেরত নিতে চায় দেশটি। সেইসঙ্গে মিয়ানমার, যাচাই বাছাই হওয়া ৭৭৮ জন রোহিঙ্গা মুসলিম এবং ৪৪৪ জন হিন্দুকেও নিতে রাজি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে এই সম্মতি হয়েছে।