আন্তর্জাতিক

হ্যারি-মেগানের বিয়ে অনুষ্ঠিত

হ্যারি-মেগান
হ্যারি-মেগান

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের বিয়ের জন্য বিশ্ব জুড়ে অপেক্ষায় আছেন লাখো মানুষ। টেলিভিশনে সরাসরি এ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপভোগ করেন অনেকে। অনেকে আবার দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক শহর উইন্ডসরে, যেখানে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কারণ ব্রিটেনের রাজকীয় বিয়ে দেখার সুযোগ রোজ রোজ আসে না।

শনিবার দুপুরে উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে বিয়ে করেন প্রিন্স চার্লসের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি। আর এ বিয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজ পরিবারে প্রবেশ করবেন মার্কিন মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক অভিনেত্রী র্যা চেল মেগান মার্কেল।

এর আগে যুক্তরাজ্যের সময় অনুযায়ী বেলা ১টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) এ হবু দম্পতি ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে চক্কর দেন গোটা উইন্ডসর।

এদিকে, তাদের অভ্যর্থনা ও শুভকামনা জানাতে সকাল হওয়ার আগেই ভিড় জমা শুরু হয়েছে উইন্ডসরের রাস্তায়গুলোতে। অনেকে আবার বিয়ের দৃশ্য নিজ চোখে উপভোগ করতে উইন্ডসর চ্যাপেলের কাছাকাছি সবচেয়ে সেরা পজিশনটা দখল করে বসে গেছেন একদিন আগে থেকেই। শুধু উন্ডসর না, গোটা যুক্তরাজ্যে চলছে উৎসবের আমেজ।

রাজকীয় বিয়ে উপভোগের জন্য শুক্রবার রাত থেকে রাস্তায় অবস্থানরত মানুষ।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানায়, মেগানের বাবা থমাস অসুস্থতার কারণে এ বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তাই মেগানকে নিয়ে হেঁটে বিয়ের মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন প্রিন্স চার্লস। বিয়ে পড়াবেন আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের আমন্ত্রণে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রায় ৬০০ অতিথি। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক অবদানের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন আরও ১২০০ জন। খুশির দিনটাতে এ যুগলকে একনজর দেখা আশায় কমপক্ষে এক লাখ মানুষের সমাগমে ভরে উঠবে উইন্ডসরের রাস্তা-ঘাট।

রাজকীয় বিয়ে উপভোগ করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উইন্ডসরে আসা ৬২ বছর বয়সী নিকি প্রুনার জানান, কেট আর উইলিয়ামের বিয়ের সময়ও তারা এসেছিলেন এবং এবারও এসেছেন। নিকির স্বামী ম্যাট প্রুনারও এসেছেন তার সঙ্গে।

ম্যাট ও নিকির মতো ছুটে এসেছেন আরও অনেকে। উৎসবের মধ্যে দিয়ে কেটেছে সারা রাত। কারো হাতে যুক্তরাজ্যের পতাকা, কারও হাতে বিয়ারের মগ। আনন্দ, উল্লাস ও হইচইয়ে মেতে উঠেছে উইন্ডসরসহ গোটা যুক্তরাজ্য।

২০১৬ সালের জুলাই থেকে চুটিয়ে প্রেম করছেন ৩৩ বছর বয়সী হ্যারি ও ৩৬ বছর বয়সী মেগান।

প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়ানার ছোট ছেলে হ্যারির পুরো নাম হেনরি চার্লস আলবার্ট ড্যাভিড। রয়্যাল মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা করা হ্যারি ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ক্যাপ্টেন। ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের পঞ্চম উত্তরসূরি তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলসে জন্ম নেয়া মেগানের মা সমাজকর্মী ও যোগব্যায়াম পরামর্শক ডরিয়া রযাা গল্যান্ড ও বাবা আলোক নির্দেশক টমাস মার্কেল। মেগান পড়াশোনা করেছেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে। যুক্তরাজ্যের জনগণের কাছে অনেকটা অপরিচিত হলেও হলিউডে আছে মেগানের বেশ জনপ্রিয়তা।

দেখে নেয়া যাক রাজ পরিবারের বিয়ের কিছু ইতিহাস:

তবে লম্বা এ তালিকায় রয়েছে বিয়েকে কেন্দ্র করে শিরশ্ছেদের মত ঘটনা। রয়েছে শিশু কনের গল্প, কোটি কোটি দর্শক টিভির সামনে বসে বিয়ে দেখা ইত্যাদি নানা ঘটনা।

দ্যা হোয়াইট ওয়েডিং

কুইন ভিক্টোরিয়া শুধু ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সুপরিচিত শাসকদের একজন ছিলেন না, তিনি লাখ লাখ মানুষ যেভাবে বিয়ে করে সেটা পরিবর্তন করতেও সাহায্য করেছিলেন।

তিনি ১৮৪০ সালে প্রিন্স আলবার্টকে বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছিল।

কিন্তু ব্যতিক্রমী ছিল কুইন ভিক্টোরিয়ার বিয়ের পোশাক। তিনি সাদা রঙের সিল্ক সাটিনের একটা পোশাক পরেন।

সেই সময়ে এটা ছিল খুব অস্বাভাবিক একটা বিষয়। সেই সময়কার বিয়েতে কনেরা সাধারণত পরতেন বিভিন্ন রঙের গাউন এবং তার ওপরে সোনা অথবা রুপার কাজ করা থাকতো।

যদিও রানী ভিক্টোরিয়া প্রথম নারী ছিলেন না, যিনি তার বিয়েতে সাদা পোশাক পরেছিলেন কিন্তু তার বিয়ের খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়েছিল।

কনেদের মধ্যে সাদা রঙের গাউন পরা একটা ট্রেন্ড বা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল।

বিশ্বব্যাপী দর্শক যে বিয়ের

প্রিন্স উইলিয়াম এবং ক্যাথরিন মিডলটনের বিয়ের অনুষ্ঠান এত মানুষ দেখেছিল যে এমনকি তাদের মেইড অব অনার এবং কনের বোন পিপ্পাও রীতিমত আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়ে যান।

কয়েকটি পত্রিকা এবং ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয় দুই বিলিয়ন মানুষ বিশ্বব্যাপী ২০১১ সালের সেই বিয়ের অনুষ্ঠান দেখেছেন।

কিন্তু একটা সরাসরি অনুষ্ঠান আসলেই কত মানুষ দেখছে তার সঠিক গণনা করা এটা প্রায় অসম্ভব।

তাই এটা একটা ভুল খবর হতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের কালচার, মিডিয়া এবং স্পোর্টস বিভাগ প্রথম ধারণা করেছিল কত দর্শক হতে পারে এই বিয়ের অনুষ্ঠান দেখার জন্য।

পরে সেই সংখ্যাটাই বারবার খবরে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়। তবে সংখ্যাটা যতই হোক না কেন সেটা অবশ্যই প্রিন্স চার্লস এবং লেডি ডায়ানার বিয়ের দর্শকের চেয়ে বেশি।

রোমান্টিকতার ছোয়া কম এমন বিয়ে

এখনকার দিনে রাজ পরিবারের বিয়ে হচ্ছে একে অপরের প্রেমে পড়ে, অনেক দিন প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে তারপরে পরিণয়।

কিন্তু একটা সময় ছিল যখন বিয়ে হত একটা রাজনীতির হিসাব-নিকাশ বা বন্ধুত্ব তৈরি করার মাধ্যম হিসেবে।

তেমনি এক বিয়ে ছিল কুইন প্রথম মেরি এবং স্পেনের দ্বিতীয় ফিলিপের মধ্যেকার বিয়েটা।

দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তার এবং ইউরোপে রোমান ক্যাথলিজমকে আরো শক্তিশালী করা ছিল ১৫৫৪ সালের ওই বিয়ের মূল উদ্দেশ্য।

বিয়ের চার বছর পর মেরি মারা যান, খবর আছে এক বছরের বেশি সময় ফিলিপের সাথে তার দেখা হয়নি।

পরে ফিলিপ তার বোনকে পাঠানো একটা চিঠিতে লিখেছিলেন তার মৃত্যুতে আমি যৌক্তিকভাব অনুতপ্ত। তবে সেই চিঠিতে স্ত্রী বিয়োগের কষ্টের কথার চেয়ে ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সমঝোতার বিষয়েই বেশি কথা ছিল।

বহুবিবাহ:

ইংল্যান্ডের হেনরি অষ্টম ছিলেন সবচেয়ে বেশি বার বিয়ে করা রাজা।

হেনরি শুধু বহুবিবাহ করেননি স্ত্রীদের হত্যা করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তিনি প্রথম বিয়ে করেন ১৫০৯ সালে। কনে ছিলেন তার মৃত ভাইয়ের স্ত্রী ক্যাথরিন অব অ্যারাগন।

তিনি একটা কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পর তাকে তালাক দেন হেনরি।

এরপর বিয়ে করেন অ্যানি বোলিনকে, তিনিও একটা কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এদিকে রাজা তখন একটা পুত্র সন্তানের জন্য পাগল প্রায়।

তিনি আবারো বিয়ে করলেন জেন সেইম্যুরকে। এই নারী একটা পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়ার কিছুকাল পরেই মারা যান।

হেনরি এরপর বিয়ে করেন অ্যানি অব ক্লিভসকে। এই বিয়েটা ছিল জার্মান প্রোটেস্টান্টদের সমর্থন পাওয়ার আশায়।

কিন্তু ছয় মাস পরেই তালাক দেন তাকে।

যখন তিনি ৫০ বছরের কাছাকাছি তখন বিয়ে করেন কিশোরী ক্যাথরিন হাওয়ার্ডকে।

দুই বছর পর তাকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেন। তার সর্বশেষ বিয়ে ছিল ক্যাথরিন মার এর সাথে।

এই নারীর সাথে তিনি মৃত্যু অবধি ছিলেন। হেনরি মৃত্যুবরণ করনে ১৫৪৭ সালে।

১৯৮১ সালে বিয়েতে ডায়ানা যে পোশাক পরেছিলেন বলা হয় সেটি সবচেয়ে দামি পোশাকগুলোর মধ্যে একটি।

নারীবাদী বিয়ে

প্রিন্স চার্লস এর সাথে লেডি ডায়ানা স্পেনসারের বিয়ে নানা কারণে উল্লেখযোগ্য।

১৯৮১ সালের এই বিয়েতে ডায়ানা যে পোশাক পরেছিলেন সেইটি ছিল দৈর্ঘ্যে সবচেয়ে বেশি। বলা হয় এটা সবচেয়ে দামি পোশাকগুলোর মধ্যে একটি ছিল।

একই সাথে এই বিয়েকে প্রথম নারীবাদী বিয়ে হিসেবে দেখা হয়। কারণ কনে বিয়ের সময় তার স্বামীর 'বাধ্য থাকবে' এমন যে প্রতিজ্ঞা করতে হয় সেটা তিনি করেন নি।

ডায়ানা প্রিন্স চার্লসের থেকে ১৯৯২ সালে আলাদা হয়ে যান।

পরে তিনি জনসম্মুখে প্রিন্স চার্লসকে নিয়ে সমালোচনা করেন।

তিনি অন্য পুরুষের সাথে প্রেম করেছেন এটাও স্বীকার করেন।

তারা ১৯৯৬ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা এক গাড়ী দুর্ঘটনায় মারা যান।

সূত্র বিবিসি বাংলা।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

ইমরান খানকে সংসদ সদস্য পদের অযোগ্য ঘোষণা

কংগ্রেসের নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত

ঘুষ নেওয়ার দায়ে সু চির আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড

আয়ারল্যান্ডের পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরণ, নিহত ১০

থাইল্যান্ডে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

নজিরবিহীন ধাক্কার কবলে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়া : বিশ্বব্যাংক

থাইল্যান্ডে দিবাযন্ত্র কেন্দ্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩৪

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ