সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে যৌথ ঘোষণায় সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। যৌথ ঘোষণায় পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক নিরস্ত্রিকরণের লক্ষ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছে উত্তর কোরিয়া।
আর যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। দুদেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে সম্মত হয়েছেন ট্রাম্প ও কিম। সিঙ্গাপুরের সেনটোসা দ্বীপের হোটেল দ্য ক্যাপেলোতে স্থানীয় সময় সকালে হয় বহু-কাঙ্খিত বৈঠকটি।
একান্ত বৈঠকের পর নিজ নিজ প্রতিনিধিদল নিয়ে বৈঠক করেন দু'নেতা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বৈঠকে যে কারো ধারণার চেয়ে ফলপ্রসু হয়েছে। কিম পুরনো ধ্যানধারণা ত্যাগ করে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ প্রথম উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। গত একমাসের নানা জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে সকালে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শীর্ষ বৈঠকটির লক্ষ্য ওয়াসিংটন এবং পিয়ংইয়ং এরমধ্যে সামরিক উত্তজেনা কমিয়ে আনা, ১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অঘোষিতযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সর্ম্পক উন্নয়ন, সম্ভব হলে পিয়ংইয়ংয়ে মার্কিন দূতাবাস।
এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা।
এরইমধ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ও কিম ছাড়াও উত্তর কোরিয়ার পক্ষে রয়েছেন শীর্ষ কূটনীতিক কিম ওং কোল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ওং হো এবং দেশটির ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ইর সু ওং।
এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন পররাস্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি।
এ বৈঠক কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুযোগ তৈরি করছে। এ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প ও কিম।
সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও কিম তাদের মধ্যেকার কিছু কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে অত্যন্ত গঠনমূলক ও খুবই সফল একটি আলোচনা সম্পন্ন করেছি। এ বৈঠক সহজ ছিল না। প্রচুর বাধা অতিক্রম করে আমরা বৈঠকটি করছি বলেন কিম।
সকালের বৈঠকের শুরুতে পতাকার সামনে দাড়িয়ে হাত মেলান ট্রাম্প ও কিম। এ দুই নেতার আলোচনার বিষয়গুলোতে সারা বিশ্বের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয়ে।
দুই দেশের বৈঠক নিয়ে বিশ্লেষকেরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন।
এদিকে, এ বৈঠক নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসিডেন্ট মুন জে ইন বলেন, গতরাতে ঘুমাতের পারিনি, আশা করি এ বৈঠক সফল হবে এবং নুতন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে।