পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
দেশটির ১১তম জাতীয় এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনাসফ, পাকিস্তান মুসলিম লিগ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি।
নির্বাচনে মোট ১১ হাজার ৬৭৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে জাতীয় পরিষদে ৩ হাজার ৪২৪ এবং প্রাদেশিক পরিষদে লড়েন ৮ হাজার ২৪৫ জন। দলীয়ভাবে ৫ হাজার ৬৬১ জন এবং স্বতন্ত্রভাবে ৬ হাজার ১২ জন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এবার প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৬ কোটি এবং নারী ভোটার প্রায় ৫ কোটি। এছাড়া ১ হাজার ৯১৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচনে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লিগের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, পাকিস্তানে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে, তাদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় কোয়েটা শহরে একটি স্কুলের পাশে পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সাজা ও নির্বাচনী প্রচারণায় ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার মধ্যেই পাকিস্তানে চলছে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী আশঙ্কায় ভোট কেন্দ্রগুলোর আশপাশে মোতায়েন করা হয় পৌনে ৪ লাখ সেনা সদস্যসহ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৮ লাখ সদস্য।
সাধারণ নির্বাচনের দিনে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দেশটির কোয়েটায় একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত ২০ জনকে কোয়েটা সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইংরেজি দৈনিক ডনের খবরে বলা হয়েছে, সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর বেলা ১১টার দিকে কোয়েটার ইস্টার্ন বাইপাস এলাকায় একটি পুলিশ ভ্যানকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের পর ওই স্কুলের কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।