মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ হাজার নারী। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইনে একের পর এক সেনা অভিযানে ভয়াবহ এই মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে।
লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য।
রোহিঙ্গাদের ওপর একটি গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেছে কানাডাভিত্তিক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা অন্টারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি-ওআইডিএ। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, ফিলিপাইন ও নরওয়ের শিক্ষক, পেশাজীবীরা এটি লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন।
এ বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ৩ হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাক্ষাৎকারে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়।
গত বুধবার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অধিবেশনে গবেষণাগ্রন্থটি উপস্থাপন করা হয়। 'জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা: অব্যাক্ত অভিজ্ঞতা' শীর্ষক গ্রন্থে রোহিঙ্গা নিপীড়নের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণাগ্রন্থে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের অমানুষিক শাররীক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ নৃশংসতায় কমপক্ষে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ হাজার নারী। আগুনে ছুঁড়ে নির্যাতন করা হয়েছে সাড়ে ৩৪ হাজার জনকে।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী পিটুনিতে আহত হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ। গুলিতে আহত হয়েছে ৪২ হাজার। গ্রেপ্তার হয়েছে ৫৬ হাজার রোহিঙ্গা।
সেনাঅভিযানে পোড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গাদের ১ লাখ ১৫ হাজার বাড়ি। ধ্বংস করা হয়েছে ১ লাখ সাড়ে ১৩ হাজার বাড়ি।
অনুষ্ঠানে কফি আনান কমিশনের সদস্য লেইতিশিয়া ভ্যান ডেন আসুম বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সবার বুঝতে সুবিধা হবে যে রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বা আঞ্চলিক কোনো সমস্যা নয়, বরং জাতীয়তাবোধ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।