জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও শান্তিতে নোবেল জয়ী কফি আনান আর নেই। ৮০ বছর বয়সে মারা গেলেন তিনি।
বিশ্বখ্যাত, নোবেলজয়ী এ নেতার মৃত্যুতে বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
১৯৩৮ সালের ৮ এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশশাসিত ঘানার কুমাসি শহরে জন্মগ্রহণ করেন কফি আনান। তার বাবা-মা উপজাতি গোষ্ঠীর শীর্ষ পর্যায়ের পরিবারের সদস্য ছিলেন। ঘানার একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর কফি আনান কুমাসির কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পড়াশোনা করেন।
২০ বছর বয়সে স্কলাশিপ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে আন্ডারগ্রাজুয়েশন করেন। আর তখন থেকেই আন্তর্জাতিক বিষয়াদিতে দক্ষ হয়ে উঠতে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলে যান কফি আনান। পরে ১৯৯৭ সালে আফ্রিকান হিসেবে কফি আনানই প্রথম জাতিসংঘের মহাসচিব হন। দুই মেয়াদে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মানবিক কার্যক্রমের জন্য ২০০১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
মহাসচিবের পদ ছাড়ার পর কফি আনান সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সিরিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টা চালান তিনি।
সর্বশেষ রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চালান জাতিসংঘের সাবেক এ মহাসচিব। তার নামে গঠিত আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাংলাদেশসহ বিশ্ব দরবারে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন কফি আনান। শনিবার সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আনান ফ্যামিলি ও কফি আনান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে টুইট করে বিশ্ববরেণ্য এ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।