ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক কুলদীপ নায়ার মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
কুলদীপ নায়ারের জন্ম ১৯২৩ সালে, অবিভক্ত পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে (বর্তমানে পাকিস্তানে)। তাঁর বাবা ছিলেন নামকরা চিকিত্সক। সেই সুবাদে স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম ও শিখদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।
কুলদীপ নায়ার আইনে স্নাতক হয়েও সাংবাদিকতায় কর্মজীবন শুরু করেন— পরবর্তী সময়ে নিজেকে বহুমাত্রিক পরিচয়ে বিস্তৃত করেন।
ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইনডিয়ান এক্সপ্রেস এবং স্টেটসম্যান সম্পাদনা করা কুলদীপ নায়ার ছিলেন সেইসব সাংবাদিকদের একজন, যারা সত্তরের দশকে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে জরুরি অবস্থা জারির বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন। প্রতিবাদী হওয়ায় তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল।
সাংবাদিকতার বিরতিতে তিনি সরকারি চাকরি করেছেন, বিদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন, হয়েছেন দেশটির উচ্চপরিষদ তথা রাজ্যসভারও সদস্য।
কুলদীপ নিজেকে অবশ্যই ভারতীয় মনে করতেন, কিন্তু তার চেয়েও বেশি মনে করতেন উপমহাদেশীয়।
তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী চেয়েছিলেন আবার পাকিস্তানের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী ছিলেন।
তিনি উগ্র ধর্মবাদিতার মতো অপছন্দ করতেন উগ্র জাতীয়তাবাদকে।
কুলদীপ নায়ারের আত্মজীবনী বিয়ন্ড দ্য লাইনস বা সীমার ওপারে । তাঁর কলাম ‘বিটুইন দ্য লাইন’ দেশ-বিদেশের ১৭টি ভাষার ৮০টি পত্রিকায় ছাপা হয়।
বিয়ন্ড দ্য লাইনস-এর শুরু শিয়ালকোটে, তার কৈশোরে যখন দেশ ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি রাষ্ট্র হয়, সমাপ্তি টেনেছেন মনমোহন সিংয়ের শাসনামলে এসে। এই যে প্রায় ৭০ বছরের কালপর্ব; এই সময়ে উপমহাদেশে রাজনৈতিক উত্থান-পতন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মানবিক বিপর্যয়, যুদ্ধ-বৈরিতা, দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন—সবই বিবৃত হয়েছে তাঁর আত্মজীবনীতে।
গণতন্ত্রকামী এই অধিকারকর্মী তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে লিখে গেছেন ১৫টি বই। তার আত্মজীবনী বিয়ন্ড দ্য লাইনসে ব্যক্তি কুলদীপ নায়ারের বেড়ে ওঠার গল্পের সঙ্গে ধরা পড়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহাসিক নানা বাঁক বদলের কথা