মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ ইস্যুতে শুরু থেকেই নিস্ক্রিয় ভূমিকা রাখায় অং সান সুচির সরকারকে ব্যর্থ বলে চিহ্নিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। তাদের মতে, মিয়ানমার এখন হতাশার বিপদজনক উপাখ্যান।
একজন নোবেলজয়ীর অধীনে রাজনৈতিক পটভূমির বদলের বিশেষ আন্তর্জাতিক খবর হতে পারতো মিয়ানমার তবে তার বদলে দেশটি এখন হতাশার বিপদজনক উপাখ্যানে পরিনত হয়েছে— এমন মন্তব্য করেছে আইসিজি।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে রাখাইন থেকে সাত লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার শুরু থেকেই নিস্ক্রিয় ভূমিকা রাখায় অং সান সুচির সরকারকে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ব্রাসেলস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাটি।
সু চির সমালোচনা করে আইসিজি মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, স্টেট কাউন্সিলর প্রায়ই নিজেকে নিরাসক্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করেন। আইসিজির মতে, গণতন্ত্রের সংগ্রামের জন্য নন্দিত নেত্রী রোহিঙ্গা সংকটের পর নিন্দাই কুড়াচ্ছেন বেশী। এরমধ্যে তিনি অনেক সন্মাননা ও পুরস্কার হারিয়েছেন।
আইসিজি'র প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও শুরুতে সুচি প্রায়ই বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে যেতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন, কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটের পর থেকে বিশ্ব তার জন্য আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। এখন তিনি নিয়মিতই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন।
এছাড়া ২১ আগস্ট তিনি সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে যে বক্তৃতা দিয়েছেন, তা শুধু আঞ্চলিক পরিসরের মানুষের জন্যই, তাতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় সামান্যই ছিল বলে আইসিজির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আইসিজির পর্যবেক্ষণে আরো বলায় হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর আক্রমণ ও তাদের বাস্তচ্যুত করার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে নির্দেশ করে। পাশাপাশি এটি মিয়ানমার, এর সরকার ও সু চির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে যে তা আর পুনরুদ্ধার করা যাবে না।.
এদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালানোর বিষয়ে জাতিসংঘের দেওয়া প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার।
এদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালানোর বিষয়ে জাতিসংঘের দেওয়া প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনটি বুধবার প্রত্যাখান করে দেশটি।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হুতে রাষ্ট্রিয় পত্রিকা গ্লোবাল নিউ লাইটকে বলেন, মিয়ানমারে প্রবেশের জন্য জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের কোনো কর্মকর্তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে মানবাধিকার কমিশনের কোনো প্রতিবেদন দেশটি মানতে রাজি নয়।
দেশটির সরকারের ওই মুখপাত্র আরো বলেন, রাখাইনের ঘটনা অনুসন্ধানে মিয়ানমার সরকার একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করেছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন মিথ্যা প্রমাণ করতে গঠিত হয়েছে এ কমিশন।