রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বর্মী সেনাদের প্রকাশিত এক বইয়ে ভুয়া ছবি প্রকাশের জন্য ক্ষমা চেয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয় এই ভুলের জন্য পাঠক এবং ওই ছবি দুটির আলোকচিত্রীদের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
রোহিঙ্গা সংকটের ‘আসল সত্য’ প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত জুলাই মাসে ইংরেজি ও বর্মী ভাষায় ‘মিয়ানমারের রাজনীতি ও সেনাবাহিনী: প্রথম পর্ব’ নামে বইটি প্রকাশ করে। যেখানে কয়েকটি ছবি নিয়ে ভুল তথ্য দেয়া ছিল।
এ নিয়ে গত শুক্রবার একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। সেখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বারা হত্যাযজ্ঞের একটি ছবিকে ১৯৪০ এর দশকে মিয়ানমারের দাঙ্গার অধ্যায়ে দেখানো হয়েছে। যাতে ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, স্থানীয়দের নির্মমভাবে হত্যা করেছে বাঙালিরা’ আর বর্মী ভাষায় বোঝানো হয়েছে- রোহিঙ্গাদের হাতে বৌদ্ধ হত্যার ছবি।
১৯৯৬ সালে রুয়ান্ডায় তোলা অন্য একটি রঙিন ছবিকে সাদা-কালো বানিয়ে ১৯৪৮ সালের আগের মিয়ানমারের কোনো এলাকার ছবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ক্যাপশনে বলা হয়েছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি মিয়ানমারের দক্ষিণ অংশ দখল করে নেয়ার পর বাঙালিরা এ দেশে প্রবেশ করে।
অথচ রুয়ান্ডায় সহিংসতার পর হুটু শরণার্থীদের দেশত্যাগের ওই ছবি তুলে পিটসবার্গ পোস্ট-গেজেটের আলোকচিত্রী মার্থা রিয়াল পুলিৎসার পুরস্কার পেয়েছিলেন।
২০১৫ সালে ইয়াঙ্গনে তোলা অন্য আরেকটি সাদা-কালো ছবির ক্যাপশনে বলা হয়েছে সাগর পথে মিয়ানমারে ঢুকছে বাঙালিরা। অথচ ছবিটি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বহনকারী থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়া- যা মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।