ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহওয়াজ শহরে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজে হামলা চালিয়ে ২৫ জনকে হত্যার ঘটনায় "যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট" পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে দায়ী করছেন ইরানি নেতারা।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করেছেন।
গতকাল তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সাবেক ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনের পরিণাম ভোগ করবে। ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হবে। খবর রয়টার্স।
রুহানি আরও বলেন, ইরান অস্ত্র সংবরণ করবে না। এসব অস্ত্রের ভেতর ‘যুক্তরাষ্ট্রকে খেপিয়ে তোলা’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোও আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মে মাসে ঐতিহাসিক বহুপক্ষীয় পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আবার বলবৎ করার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাম্পের একই অবস্থা হবে— আমেরিকা সাদ্দাম হোসেনের ভাগ্য বরণ করবে,’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দেয়ার সময় প্রেসিডেন্ট রুহানি এ কথা বলেন।
রুহানি এমন সময়ে এই হুঁশিয়ারি দেন, যখন ইরান ১৯৮০-৮৮ ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরুর বার্ষিকী উদ্যাপনে সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছিল।
ইরান সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ইঙ্গিত দিয়েছে, মার্কিন অবরোধের পাল্টা হিসেবে অন্য দেশগুলোর তেল রপ্তানি বন্ধে সে উপসাগরীয় এলাকায় সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
ওয়াশিংটন তেল পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্য উপসাগরে রণতরি মোতায়েন রেখেছে।
এদিকে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহওয়াজ শহরে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজে হামলা চালিয়ে ২৫ জনকে হত্যার ঘটনায় "যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট" পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে দায়ী করছেন ইরানি নেতারা।
দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের পুতুলগুলো" ইরানে "নিরাপত্তাহীনতা তৈরির" চেষ্টা করছে।
ইরান বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ এনে যুক্তরাজ্য, হল্যান্ড এবং ডেনমার্ক থেকে নিজেদের কূটনীতিকদের ডেকে পাঠিয়েছে তেহরান।
এদিকে, ইরানের সরকারবিরোধী আরবগোষ্ঠী আহভাজ ন্যাশনাল রেজিসট্যান্স ও জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস উভয়ই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তবে কোনো গোষ্ঠীই হামলায় নিজেদের জড়িত থাকার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
গত শনিবার খুজেস্তান প্রদেশের ওই শহরে কুচকাওয়াজ চলাকালে বন্দুকধারীরা দূর থেকে গুলি চালাতে শুরু করে।
একপর্যায়ে তারা মঞ্চে থাকা সেনাকর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এ সময় ইরানি সেনাবাহিনী পাল্টা জবাব দিলে গোলাগুলি শুরু হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে প্যারেড দেখতে আসা বেসামরিক নাগরিকসহ ইরানি রেভলুশনারি গার্ডের ৮ সদস্য ও একজন সাংবাদিক রয়েছেন।