ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটেই যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা-নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে রিয়াদ।
সৌদি টেলিভিশনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, সৌদি কনস্যুলেটে দেখা করতে যাওয়ার পর কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার মারামারি হয়। এর কিছু সময় পরেই তার মৃত্যু হয়।
খাসোগিকে হত্যা অভিযোগ এতোদিন অস্বীকার করে আসছিল দেশটি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান আহমদ আল আসসিরি ও ক্রাউন প্রিন্স সালমানের শীর্ষ সহযোগী সৌদ আল কাহতানিসহ উচ্চপদস্থ পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৮জন সৌদি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
বান্ধবীকে বিয়ে করার জন্য ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যান সাংবাদিক জামাল খাসোগি। সেখানেই তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি করে আসছিল ইস্তাম্বুল। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে চাপ দেয় রিয়াদকে। তবে অভিযোগ ওঠার পর থেকে বরাবরই সৌদি আরব হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করে আসছিল।
খাসোগির অর্ন্তধান রহস্যে একের পর এক রোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সবশেষ তার নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে সৌদি আরবকে বাড়তি সময় দিলেও 'দ্য ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ শীর্ষক সম্মেলন বয়কট করেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী, ব্রিটিশ, ফরাসি ও ডাচ মন্ত্রীরা। ফলে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে রিয়াদ।
অবশেষে খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করল সৌদি আরব। সৌদি টেলিভিশনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে দেখা করতে যাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে খাসোগির মারামারি হয়।
এর কিছু সময় পরেই তার মৃত্যু হয়। দেশটির রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয় কনস্যুলেটে ঢোকার পর মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি, তারপর মৃত্যু হয় খাসোগির। প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রাজপরিবারের এ কট্টর সমালোচক ও সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের এ ব্যাখ্যা হয়ত সঠিক। এ ঘটনা অপ্রত্যাশিত, তবে তিনি সৌদি আরবকে বর্ণনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে।
তুরস্ক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের আগে খাসোগি তার অ্যাপল ওয়াচের রেকর্ডিং চালু করেন এবং তার আইফোন রেখে যান তার বাগদত্তার কাছে।
সেখানে যা ঘটেছে তার অডিও রেকর্ড আইক্লাউডে জমা হয় এবং তার ওপর নির্যাতন ও হত্যার প্রমাণ মিলেছে তা থেকে। তুরস্ক এটাও জানায়, ওই হত্যাকান্ডের জন্য ১৫ সদস্যের একটি দল সেখানে আসে এবং ঘটনা ঘটিয়ে দেশ ত্যাগ করে।
সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত খাসোগি একবছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যান, সেখানে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে কলাম লিখতেন।