সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির ঘাতকরা যত ঊচ্চ পর্যায়ের হোক তাদের সবাকে শাস্তি পেতেই হবে এ মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান।
অন্যদিকে,এটি ইতিহাসের জঘন্যতম গুমের ঘটনা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,যারা খাসোগি হত্যা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত তাদের বিপদে পড়তে হবে।
অবশেষে নিখোঁজ সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির মরদেহের টুকরো ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসাল জেনারেলের বাসভবনে মিলেছে বলে তুর্কিভিত্তিক কিছু মিডিয়া দাবি করেছে।
বাসভবনের বাগানের একটি কুয়ায় এ দেহাবশেষ মেলেছে।
স্কাই নিউজও তাদের এ তথ্যকে সমর্থন করেছে।
এদিকে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সংসদে দেয়া এক ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, হত্যাকারীরা যত উচ্চ পর্যায়েরই হোক না কেন তাদের শাস্তি পেতে হবে।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম উচ্চারণ না করেই এরদোয়ান আরো বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দাতাকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
পাশাপাশি সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ হত্যার দায় স্বীকার করাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশটি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এরদোয়ান।
এদিকে, ব্যাপক সমালোচনার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খাসোগি হত্যা ইস্যুতে তার অবস্থান পাল্টে একে ইতিহাসের জঘন্যতম গুমের ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন।
সৌদি আরবকে সর্তক করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের বিপদ অনিবার্য। এরইমধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২১ ব্যাক্তির ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন সরকার।
গত ২ অক্টোবর স্বেচ্ছায় নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন। তারপর থেকেই তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো দাবি করে আসছিল কনস্যুলেটের ভেতরেই সৌদি সরকারের কট্টোর সমালোচক খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমদিকে অস্বীকার করলেও হত্যার ১৭ দিন পর খাসোগি হত্যার দায় স্বীকার করে সৌদি সরকার।
তবে এ ঘটনার সাথে সৌদি প্রিন্স কিংবা রাজ পরিবারের কোনো সদস্য জড়িত নন বলে দাবি করে দেশটি।