আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল শুনানি শেষ

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল শুনানি শেষ
মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল শুনানি শেষ

মিয়ানমারে দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনে দণ্ডিত রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল শুনানি হয়েছে।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মুলতুবি করা হয়েছে— তবে রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

এ বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে সাত বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করে ইয়াঙ্গুনের একটি জেলা আদালত। নভেম্বরের শুরুতে ইয়াঙ্গুনের হাইকোর্টে দুই সাংবাদিকের পক্ষে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা।

এর আগে নিম্ন আদালতের রায়ে ৭ বছরের সাজা ঘোষণার পর নভেম্বরের শুরুতে তাদের আইনজীবীর পক্ষ থেকে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যদের আমন্ত্রণে এক রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন মিয়ানমারে কর্মরত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়েও।

পরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাপ্তরিক গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রাখাইনের ইন দিন গ্রামে সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার ওপর অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই মামলার কবলে পড়েন তারা।

গতকাল ওই আপিলের শুনানি চলাকালে সরকারপক্ষের আইনজীবী খাইন খাইসে সোয়ে আদোলতকে বলেন, আসামিরা গোপন নথি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন, প্রমাণ হয়েছে যে, তারা জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

আপিলকারীদের আইনজীবী এল. খুন রিং পান যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, সরকার পক্ষের কৌশলী দুই আসামির গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং মিয়ানমারের শত্রুর কাছে তা হস্তান্তরের কোনও তথ্যপ্রমাণ আদালতে হাজির করতে পারেনি। তবে নিম্ন আদালত আসামির ঘাড়েই নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের দায়ভার অর্পণ করেছে।

রিং পান বলেন, আমি যেসব নথিপত্র ও রেফারেন্স আদালতে উপস্থাপন করেছি তাতে প্রমাণ হয় আসামিরা নির্দোষ।

নিম্ন আদালতের রায় যথাযথ নয় উল্লেখ করে দণ্ডিত দুই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার তারিখ না জানিয়েই আদালত মুলতুবি ঘোষণা করা হয়।

গতবছর ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। তবে শুরু থেকে ও পর্যন্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ইন দিন গ্রামে সংঘটিত এক গণহত্যার চিত্র তুলে এনেছিলেন রয়টার্সের দণ্ডিত দুই সাংবাদিক। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ওই ঘটনার দায়ে সেনা-সদস্যদের সাজা দিলেও দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনে রয়টার্স সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তাদের মুক্তির দাবিতে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপ।

এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারাও রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতবছর ২৫ আগস্ট হামলার পর আসা ৭ লাখের বেশি শরণার্থীসহ এখন ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

ইমরান খানকে সংসদ সদস্য পদের অযোগ্য ঘোষণা

কংগ্রেসের নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত

ঘুষ নেওয়ার দায়ে সু চির আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড

আয়ারল্যান্ডের পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরণ, নিহত ১০

থাইল্যান্ডে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

নজিরবিহীন ধাক্কার কবলে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়া : বিশ্বব্যাংক

থাইল্যান্ডে দিবাযন্ত্র কেন্দ্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩৪

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ