আট মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভিয়েতনাম বৈঠকে বসছেন।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের উদ্দেশে ভিয়েতনামে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ান হ্যানয়ের নই বাই বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গতকাল সকালে এ সাক্ষাতের উদ্দেশে ভিয়েতনামে পৌঁছেছেন কিম জং–উন।
উনকে বহনকারী সবুজ ও হলুদ রঙের ট্রেনটি ভিয়েতনামের সীমান্ত শহর দং দাং স্টেশনে পৌঁছার পর গাড়িতে করে বৈঠকস্থল হ্যানয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। স্টেশনে তাকে লালগালিচা অভ্যর্থনা জানানো হয়। দুই পাশে পতাকা হাতে তাকে অভিবাদন জানান লোকজন।
ভিয়েতনাম যাত্রার ক্ষেত্রে দাদার দেখানো পথই অনুসরণ করেন কিম জং–উন। তার দাদা উত্তর আমেরিকার প্রথম নেতা কিম ইল সাং ভিয়েতনাম ও পূর্ব ইউরোপে যাত্রার ক্ষেত্রে ট্রেনই ব্যবহার করতেন। একই পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছেন কিম—এমনটাই মনে করা হচ্ছে। কিমের ব্যক্তিগত সবুজ ও হলুদ রঙের ট্রেনে রয়েছে ২১টি গুলিরোধী বগি।
আজ -বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও কিম একান্তে বৈঠক করবেনভ
এরপর তারা নিজেদের উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে রাতের ভোজ সারবেন। কাল -বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে মূল বৈঠকটি হবে।
আট মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে দুই নেতা দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসছেন। অথচ এক বছর আগেও তাদের বৈঠকের বিষয়টি ছিল অকল্পনীয়।
ট্রাম্প ও কিম তর্কযুদ্ধ, কাঁদা-ছোড়াছুড়ি, পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধমকিতে জড়িয়েছিলেন। নজিরবিহীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পাল্টায় এ দৃশ্যপট। আর এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বড় ভূমিকা রাখেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন।
সিঙ্গাপুরের বৈঠকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্য কমাতে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সেতু তৈরির চেষ্টা করা হয়। তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ অগ্রগতির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি এখনো। যদিও উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেনি। দুই নেতার দ্বিতীয় দফা বৈঠকেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।