পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বুধবার আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে ভারত।
ভারত দাবি করেছে, নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে তাদের চালানো গোলা হামলা প্রতিহত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গুলোর দাবি,
ভারতীয় প্রতিরক্ষাসূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জম্মু ও কাশ্মিরের সীমান্তবর্তী শহর রাজৌরির কাছে দুই দেশের মধ্যে অস্ত্রযুদ্ধ হয়।
পাকিস্তানি সেনাদের গোলা হামলা প্রতিহত করতেই ভারত পাল্টা গুলি ছুড়েছে— এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে এ ব্যাপারে কোনও সংবাদ প্রকাশ করেনি।
ভারত নিয়ন্ত্রতি কাশ্মিরে দেশটির আধা-সামরিক বাহিনীর ওপর জইশ-ই-মুহাম্মদের সঘোষিত আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হলে এ পর্যায়ের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা শুরু হয়। হামলায় রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মাটিতে বিমান হামলা চালায় ভারত। এরপর থেকেই দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে উঠে আসছে পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা ও একে অন্যের হামলা প্রতিহত করার খবর। দুই দেশই একে অপরকে শাসাচ্ছে নিজেদের হাতে থাকা শতাধিক পারমাণবিক অস্ত্রের ইঙ্গিত সামনে এনে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, গতকাল রাত সাড়ে ১০টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত সুন্দেরবানি সেক্টরে দুই পক্ষের গোলাগুলি হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবেন্দর আনন্দ হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, পাকিস্তান তাদের অন্যায় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং একদিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওশেরা ও সুন্দেরবেনি সেক্টরের নিয়ন্ত্রণরেখায় তারা (পাকিস্তান গোলাবারুদ নিক্ষেপ এবং ছোটখাটো অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছে। ভারতীয় বাহিনী কঠোর ও কার্যকরভাবে এর জবাব দিচ্ছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। ভারতের দাবি জইশ-ই মুহাম্মদের জন্ম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গর্ভে। তবে শুরু থেকেই জঙ্গি মদদের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান।
২৬ ফেব্রুয়ারি সেই জইশ-ই মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংসের কথা বলেই ৭১-পরবর্তী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান হামলা চালায় ভারত।
২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পাশাপাশি পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করে পাকিস্তান। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলমান থাকা অবস্থাতেই গত ১ মার্চ আটক পাইলট অভিনন্দনকে মুক্তি দেয় ইসলামাবাদ। এদিন বিকাল থেকেই সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পরস্পরকে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ শুরু করে দুই দেশের সেনাবাহিনী। সেই গোলাগুলি এখনও থামেনি।