নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকর্মীরা আরেকটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
রোববার রয়টার্স জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও পরিচয় শনাক্ত করার কাজ শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।
নিউ জিল্যান্ডের পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়,গ্রেপ্তার অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট একাই ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে হামলা চালান। হামলার পর অন্য যাদের আটক করা হয়েছিল, তাদের কোনো সম্পৃক্ততা তদন্তে পাওয়া যায়নি।
২৮ বছর বয়সী বর্ণবাদী ট্যারেন্টকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আপাতত হত্যার অভিযোগ আনা হলেও পরে আরও অভিযোগ যুক্ত করা হতে পারে।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় প্রথমে আল নূর মসজিদে ঢুকে সেমি অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় ঘাতক ট্যারেন্ট। পুরো ঘটনা সে হেলমেটে বসানো ক্যামেরা দিয়ে ফেইসবুকে লাইভ করে।
আল নূরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে গাড়ি নিয়ে ট্যারেন্ট যায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে লিনউড মসজিদে। সেখানেও একই কায়দায় গুলি শুরু করে সে। এক পর্যায়ে মসজিদের খাদেম ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে গিয়ে অস্ত্র কেড়ে নিলে বাইরে অপেক্ষায় থাকা গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় ট্যারেন্ট।
কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ চার জনকে আটক করার কথা জানায়, একটি গাড়িতে বেশ কিছু বিস্ফোরক পাওয়ার পর তা নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এই হামলার ঘটনার সময় আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্য। অল্পের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে যান।
ক্রাইস্টচার্চের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানান, আল নূর মসজিদেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। সেখানেই আরেক জনের পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জন হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহতদের জন্য রোববার ক্রাইস্টচার্চের গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা করা হয়। এখনও ৩৪ জনকে ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে ১২ জন রয়েছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে।
এ হামলার ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন তিন জন ও পাঁচ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় আটক হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্ট আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, হামলাকারীর কাছে অত্যাধুনিক ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান তিনি।