নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু করেছেন বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি শান্তির বার্তা দিয়ে।
দেশটির দুটি মসজিদে মুসল্লিদের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর এ বিষণ্ন অধিবেশনে তিনি মুসলমানদের উদ্দেশ্যে সালাম দিয়ে বলেন, আসসালামু আলাইকুম।
শুক্রবারের ওই হামলায় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদের অর্ধশত মুসল্লি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশিও রয়েছেন।
তিনি তার বক্তব্যের শেষে বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন নামাজ পড়তে জড়ো হওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কাজেই তাদের শোককে আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে।
ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির নাম কখনও মুখেও উচ্চারণ করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন আরডার্ন।
শোকাহত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকারী দেশের সর্বোচ্চ আইনের মুখোমুখি হবেন।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলকারী এ হত্যাকাণ্ড থেকে অনেক কিছু পেতে চেয়েছেন। কিন্তু পেয়েছেন কেবল নৃশংসতা। যে কারণে আমার মুখ থেকে কখনও তার নাম শুনতে পাবেন না। তিনি একজন সন্ত্রাসী। তিনি একজন অপরাধী। তার ব্যাপারে বলতে হলে কখনই তার নাম মুখে নেব না।
সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, যদি নাম বলতেই হয় তবে নিহতদের নাম বলবেন। যে ব্যক্তি তাদের প্রাণ হরণ করেছেন সে নাম মুখে না নিতে অনুরোধ করছি।
গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে নির্বিচারে গুলি করে এক সন্ত্রাসী। ওই হামলায় ৫০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ট্যারেন্ট একাই ওই দুই মসজিদে হামলা চালায়।
টেস্ট খেলার জন্য ওই শহরেই ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। ক্রাইস্টচার্চের ওই মসজিদেই জুমার নামাজ আদায়ের কথা ছিল তামিম ও মুশফিকদের। পাঁচ মিনিট দেরি করে পৌঁছানোর কারণে তারা বীভৎস ঘটনা থেকে বেঁচে যান। একজন নারী তাঁদের সাবধান করে দিলে তাঁরা দ্রুত হোটেলে ফিরে যান।