জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভের মধ্যে সামরকি অভ্যুত্থানে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
বশিরকে গ্রেপ্তার এবং সেই সঙ্গে আগামী তিন মাসের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থগিত করা হয়েছে সংবিধান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধেসহ দেশটির আকাশসীমা বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আগামী দুই বছর সেনাবাহিনী দেশ পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সেনা-শাসনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন সুদানিরা।
তেল ও রুটির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে দেশটির সেনাবাহিনী গত বৃহস্পতিবার দেশটির তিন দশকের শাসক ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পরবর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত আগামী দুইবছর সেনাবাহিনী দেশ পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ আওয়াদ ইবনে আউফ টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।
দেশে আগামী তিনমাস জরুরি অবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আফ্রিকার বৃহৎ দেশটির সঙ্গে প্রতিবেশী সকল দেশের সীমান্ত ও সুদানের আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও সেনাবাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না তারা। জরুরি অবস্থা ভেঙ্গে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রেসিডেন্ট ওমরের পরিবর্তে সেনাবাহিনীর দেশ শাসন সুদানের কোনো গুণগত পরবির্তন আনতে পারবে না বলে মনে করছেন তারা।
১৯৮৯ সালে এমনই একটি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির। দারফুরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তজার্তিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে, ফ্রান্স, ব্রিটেন,জার্মানি, বেলজিয়াম ও পোলান্ডের আহ্বানে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সুদান নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।