শ্রীলংকায় ইস্টার সানডেতে গির্জা ও হোটেলসহ বিভিন্ন জায়গায় হওয়া আট বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন কমপক্ষে ৪৫০ জন। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার খ্রিষ্টানদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইস্টার সানডেতে গির্জায় প্রার্থনারত মানুষ ও অভিজাত হোটেলসহ মোট আট জায়গায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে। তবে কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোনো দল বা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলায় নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ৩৫ জন বিদেশি রয়েছেন।
হামলার পর দেশজুড়ে জারি করা হয়েছিল কারফিউ। তবে তা সোমবার তুলে নেয়া হয়েছে। এছাড়া, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রধান সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
এদিকে, শ্রীলংকা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার দিনের শেষের দিকে রাজধানী কলম্বোর প্রধান বিমানবন্দরের নিকটে একটি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে দেশটির বিমানবাহিনী। ধারণা করা হয়, এই বোমাটি দিয়ে নবম হামলার পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীদের।
সর্ব প্রথম হামলার খবর পাওয়া যায়, কলম্বোর সেইন্ট অ্যান্থনি’স গির্জায়, সকাল ৮টায় এর দিকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও পাঁচটি হামলার খবর পাওয়া যায়।
সেইন্ট অ্যান্থনি’স গির্জায় হামলার কিছুক্ষণ পরই নিজেদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বোমা হামলার কথা জানায় নেগোম্বোর কাতুওয়াপিতিয়ার সেইন্ট সেবাস্টিয়ান’স গির্জা।
প্রায় একই সময়ে বাত্তিচালোয়া ও কলম্বোর কোচিকারে জেলায় আরও দু’টি গির্জায় বোমা হামলার খবর প্রকাশিত হয়। স্থানীয় পুলিশ জানায়, গির্জার কিংসবুরি হোটেল ও শাংরি-লা হোটেলেও বোমা হামলা হয়েছে।
এ ছয় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিনামন গ্র্যান্ড হোটেল ও দেহিওয়ালা শহরের এক বাড়িতে বোমা হামলার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, কোনো কোনো হামলা আত্মঘাতীও ছিল।
শ্রীলংকায় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিল সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, স্থানীয় গণমাধ্যম অনুসারে, হামলার ১০ দিন আগে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হামলা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন দেশটির পুলিশ প্রধান।
রোববার বিকেলে এ বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখবো যে, হামলা ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল কিনা। এসব বিষয়ে মন্ত্রীদের অবহিত করা হয়নি। আপাতত প্রধান অগ্রাধিকার পাবে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার।