রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ঘোষণা করা হবে। নেদারল্যান্ডসের হেগে স্থাপিত আইসিজের বিচারকরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেবেন।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি গাম্বিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের টুইটারে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে করা মামলার রায় ২৩ জানুয়ারি ঘোষণা করা হবে।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের কারণে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।
রোহিঙ্গাদের ওপর এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে গেল বছরের ১১ নভেম্বর আইসিজে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। নেদারল্যান্ডসের হেগে গেল বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মামলার ওপর শুনানি হয়।
মামলায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও সংঘাত আরো তীব্রতর না হওয়ার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানায় দেশটি।
তবে হেগে শুনানিতে অংশ নেয়া মিয়ানমারের নেত্রী শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু কি গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, এ বিষয়ে মামলা পরিচালনার এখতিয়ার জাতিসংঘের আদালতের নেই। গণহত্যার অভিযোগ খারিজ করতে বিচারককে আহ্বান জানিয়েছিলেন সু কি।
তবে গত ২০ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির কাছে রোহিঙ্গা ‘গণহত্যা’ তদন্তের সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে দেশটির স্বাধীন তদন্ত কমিশন (আইসিওই)। প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ অসম শক্তিপ্রয়োগ করেছে, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের সামিল। তবে সেটাকে গণহত্যা বলা যায় না।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে রুল জারি করবে কিনা সে বিষয়ে আদেশ দেয়ার আগেই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিয়ানমার।