যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বিদ্রোহীগোষ্ঠী তালেবানের মধ্যকার ঐতিহাসিক চুক্তির একটি অংশ মানতে চাচ্ছেন না আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।
দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার এবং এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শনিবার কাতারের দোহায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিতে আফগান সরকারের হাতে পাঁচ সহস্রাধিক তালেবান বন্দির মুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। তবে চুক্তির এই অংশটি মানবেন না বলে জানিয়েছেন আশরাফ ঘানি।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এদিকে চুক্তির একদিন পরই রোববার আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর রয়টার্সের।
স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, ১৩৫ দিনের মধ্যে আফগানিস্তানে থাকা ১৩ হাজার মার্কিন সেনার মধ্যে ৮ হাজার ৬০০ সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথার পাশাপাশি চুক্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানরা যৌথভাবে আফগানিস্তানে অন্তত ৫ হাজার তালেবান সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের বন্দিদশা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করবে। তবে আশরাফ ঘানি বলছেন, ‘আফগান সরকার ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ৫ হাজার তালেবানের বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়।
তাছাড়া এ বিষয়ে সরকার কোনো প্রতিশ্রুতিও দেয়নি।’ আফগানিস্তানে কাকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেয়া হবে, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো এখতিয়ার রাখে না। তাই চুক্তিতে এ বিষয়ে দুই পক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মেনে নিতে পারবে না আফগান সরকার।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে তৎকালীন তালেবান সরকারকে উৎখাতে আগ্রাসন চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর থেকেই সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন রেখেছে দেশটি।