করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বুধবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় কখনোই নির্বাচন বাতিল হয়নি। ১৯৫২ সালে যখন রক্তক্ষয়ী কোরিয়ান যুদ্ধ চলছিল তখনও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। খবর বিবিসির
এ দিন স্থানীয় সময় বুধবার সকাল থেকেই মাস্ক পরে ভোটাররা ভোট দিতে আসেন। অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে তারা লাইনে দাঁড়ান। কেন্দ্রে ঢোকার আগেই সকলের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। হাত জীবাণুমুক্ত করে ভোটারদের প্লাস্টিকের দস্তানা পরিয়ে দেওয়া হয়। এতসব কার্যক্রমের পরই একজন ভোটার হাতে সিল পান এবং তাকে ব্যালট দিয়ে বুথে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন করোনাভাইরাস আক্রান্তরাও ভোট দিয়েছেন হাসপাতাল থেকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদে ৩০০ আসন রয়েছে। ৩৫টি দলের প্রার্থীরা এসব আসনের জন্য লড়ছেন। তবে মূল লড়াই হচ্ছে ক্ষমতাসীন মিনজু (গণতান্ত্রিক) পার্টি ও প্রধান বিরোধী দল ইউনাইটেড ফিউচার পার্টির মধ্যে।
এবারের নির্বাচনের কেন্দ্রে ছিল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার বিষয়টি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মহামারির কারণে আসন্ন অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারের দুর্নীতির বিষয়টিও।
২০২২ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই সংসদ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এই মহামারির এই সময় নির্বাচনের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক নাগরিকেরই ঠিক সায় ছিল না। তবে বুধবার সকাল থেকেই কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। মহামারি তাদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে, কারও শরীরের তাপমাত্রা যদি ৩৭.৫ সেন্টিগ্রেডের বেশি হয় তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হবে। তাকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। সেখান থেকেই তিনি ভোট দেবেন। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে পাঠানো হবে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদেরও ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। চিঠির মাধ্যমে তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। ব্যালটে সিল দিয়ে তা ফের চিঠির মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন রোগীরা।
জানুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল অর্থনীতি ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি। কিন্তু কিছুদিন পরই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে নভেল করোনাভাইরাস।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার মডেলটি বেশ কার্যকরী। মিনজু (গণতান্ত্রিক) পাটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের সরকার বিপুল সংখ্যক মানুষকে পরীক্ষা করেছে ও আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এতে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ইউরোপ-আমেরিকা এমনকি প্রতিবেশি চীনের চেয়ে বেশ কম।
দক্ষিণ কোরিয়ার সবমিলিয়ে সাড়ে ১০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২২৫ জনের। প্রায় ৮ হাজার মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এই বিষয়টি মিনজু (গণতান্ত্রিক) পার্টিকে এগিয়ে রেখেছে। তবে বিরোধীরা এই কার্যক্রমের জন্য সরকারকে নয়, বরং স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ দিয়ে প্রচার চালিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ায় দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে কিনা তা নিয়ে অনেকে চিন্তিত। তবে এই মহামারির মধ্যেও যে অনেক কিছু করা সম্ভব তা দৃঢ়ভাবে দেখিয়ে দিল দক্ষিণ কোরিয়া।