ভারতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তারের জন্য যে তাবলিগ জামাতের সদস্যদের দায়ী করা হচ্ছিল এবার তারাই এ ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছেন।
রাজধানী দিল্লিতে কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা ২শ’রও বেশি তাবলিগ জামাত সদস্য করোনা ভাইরাস আক্রান্ত অন্যান্যদের চিকিৎসায় প্লাজমা দিতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
বিবিসি জানায়, প্রাথমিকভাবে গত রবিবার ১০ জন তাবলিগ সদস্য প্লাজমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু রাজ্য থেকে ফারুক নামের একজনও প্লাজমা দেন।
বিবিসি’কে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কিছু মানুষের করোনাভাইরাস পজিটিভ আসার পর গণমাধ্যমে আমাদেরকে হেয় করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ওয়াস্তে এতে (প্লাজমা দান) আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।”
দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটি মসজিদের তাবলিগ জামাতে যোগ দেওয়া শত শত মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে বেড়ে গিয়েছিল মুসলিম বিদ্বেষ।
৮ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত মসজিদটিতে বড় ধরনের ওই জমায়েতে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাইকে খুঁজে বের করতে রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেয় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। জামাত সদস্যদের বিরুদ্ধে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
রবিবার প্লাজমা দান করে আনাস সৈয়দ নামের একজন বলেন, “ সবাই আমাদেরকে দোষারোপ করায় আমরা কয়েকসপ্তাহ খুবই কঠিন সময়ের মধ্যে ছিলাম। এরপর মওলানার কাছ থেকে প্লাজমা দেওয়ার আহ্বান এলে আমরা স্বেচ্ছায় তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।”
স্বেচ্ছায় প্লাজমা দানের প্রচারের অগ্রভাগে থাকা চিকিৎসক সোয়েব আলি বলেন, কেবল দিল্লিতেই আগামী কয়েকদিনে প্লাজমা দেবেন সেরে ওঠা ৩০০ থেকে ৪০০ তাবলিগ জামাত সদস্য। নাগরিক হিসাবে নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই তারা প্লাজমা দিচ্ছেন।
দিল্লির স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্লাজমা সংগ্রহ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা করা হবে। কিছুদিন ধরেই ভারতের কয়েকটি রাজ্যের হাসপাতালে পরীক্ষামূলক ভাবে প্লাজমা থেরাপি শুরু হয়েছে। এতে কয়েক জন সুস্থও হয়ে উঠেছেন বলে শোনা গেছে।
এ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের শরীরের অ্যান্টিবডি বা প্রোটিন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করে। সুস্থ হওয়া রোগীর রক্তের প্লাজমায় পাওয়া যায় এই অ্যান্টিবডি।
যেসব রোগীর দেহে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না তাদেরকেই এ মুহূর্তে এই প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লখনউয়ের একটি সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক।
যদিও এ থেরাপির কার্যকারিতার বলিষ্ঠ কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় এটিকে এখনো চিকিৎসার মর্যাদা দেয়নি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়।