বেলারুশে সরকার-বিরোধী সাংবাদিককে ধরতে বোমাতঙ্কের ভয় দেখিয়ে বিদেশি বিমান নামানো হলো। একেবারে হলিউডের সিনেমার ধাঁচে একটি বিমানকে তাদের দেশে নামতে বাধ্য করল বেলারুশ। তারপর বিমানের যাত্রী সাংবাদিক রামান প্রাটাসেভিচকে ধরে বেলারুশের সেনা।
বিমান যখন নামছে, তখন ২৬ বছর বয়সী সাংবাদিক তার সহযাত্রীদের বলেন, ‘আমাকে ওরা ফাঁসিতে ঝোলাবে।’ রেডিও ফ্রি ইউরোপের বেলারুশ বিভাগ এই খবর দিয়েছে।
প্রাটাসেভিচের অপরাধ তিনি প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর বিরোধী। প্রেসিডেন্ট-বিরোধী আন্দোলনকে তিনি সমর্থন করেন, তা নিয়ে খবর করেছেন এবং বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
প্রাটাসেভিচের বিমানটি গ্রিস থেকে লিথুয়ানিয়া যাচ্ছিল। বেলারুশের উপর দিয়ে যখন বিমানটি যাচ্ছিল, তখনই হঠাৎ তার দিকবদল করা হয়। এক যাত্রী জানিয়েছেন, বিমানটি হঠাৎ দিকবদল করতেই একজন যাত্রী খুবই ভয় পেয়ে যান। তিনি ভয়ে কাঁপতে থাকেন। তিনিই হলেন প্রাটাসেভিচ।
বেলারুশের সরকারপন্থি মিডিয়ার খবর, বিমানে বোমাতঙ্কের খবর ছিল। প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, মিগ যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে যাত্রীবাহী বিমানটিকে মিনস্কে নামানো হোক। নামানোর পর বিমানে অবশ্য কোনো বোমা পাওয়া যায়নি।
কিন্তু বেলারুশের সেনা প্রাটাসেভিচকে ধরে নিয়ে চলে যায়। তার জিনিসপত্র রানওয়েতে ফেলে দেয়া হয়। একজন যাত্রী জানিয়েছেন, যখন ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন তারা প্রাটাসেভিচকে প্রশ্ন করেন, কী ব্যাপার! সাংবাদিক জবাব দেন, ‘ওরা আমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবে।’
বেলারুশের বিরোধী নেত্রীর সহযোগী ফ্রাঙ্ক ডিডাব্লিউকে জানিয়েছেন, প্রাটাসেভিচ তাকে বলেছিলেন, গ্রিসে তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে। বিমানবন্দরেও তার সঙ্গে সাংবাদিকের কথা হয়েছে। সেখানেও তাকে অনুসরণ করা হয়েছে বলে প্রাটাসেভিচ জানিয়েছিলেন।