লোহিত সাগরে পাঁচ দিনের নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইসরাইল এবং আমেরিকার রণতরীগুলো। এই মহড়া শুরু হয়েছে গত বুধবার এবং ‘জাহাজের মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে’ জাহাজে ওঠা, অনুসন্ধান চালানো এবং তা জব্দ করার কৌশল এই মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খবর বিবিসি’র।
মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বলছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করতে অংশ গ্রহণকারী দেশগুলোর নৌবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য।
বিবিসি’র নিরাপত্তা বিষয়ক ফ্র্যাংক গার্ডনার তাঁর প্রতিবেদনে বলেছেন, সংবাদদাতা উপসাগরীয় কোন দেশের নৌবাহিনী, মার্কিন নৌবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত ইসরাইলি রণতরীর সংগে যৌথ নৌ মহড়া চালাচ্ছে- এমন ঘটনা এই প্রথম। মাত্র তিনবছর আগেও বিষয়টা ছিলো অচিন্ত্যনীয়।
সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসেইয়েলের সংগে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অ্যাব্রাহাম চুক্তি নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার পর এই যৌথ মহড়ায় দেশগুলো অংশ নিচ্ছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক, সামরিক এবং গোয়েন্দা যোগাযোগের ব্যাপারে ব্যাপক ভিত্তিতে আলাপ আলোচনা হয়েছে, বিশেষ করে ইরান বিষয়ে এই দেশগুলোর একই ধরনের উদ্বেগের পটভূমিতে রয়েছে।
ইরানও সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিজস্ব নৌ মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন এবং অন্যান্য পশ্চিমা নৌবাহিনীর উপস্থিতির ঘোর বিরোধিতা করছে ইরান। ইরান আরব দেশগুলোকে বলার চেষ্টা করেছে উপসাগরীয় এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বাভাবিকভাবে ইরানের সংগেই জোটে তাদের অংশীদার হওয়া উচিত।
কিন্তু ইরানের এই আহ্বানে তারা কর্ণপাত করেনি। ছয়টি আরব রাষ্ট্রের প্রত্যেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেশে সামরিক ঘাঁটি তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে দিয়েছে।
সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরান এবং তার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্পর্কে গভীরভাবে সন্দিহান। ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সফলভাবেই অগ্রাহ্য করে যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী বিকল্প মিলিশিয়া বাহিনীর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, তার ওপরেও তারা উদ্বেগের সংগে নজর রেখেছে।
সৌদি নেতৃত্বে ইয়েমেনের ওপর ছয় বছরের বেশি সময় ধরে চালানো বিমান হামলা ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে পারেনি। লেবাননে হিযবুল্লাহ আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়েছে। ইরাক এবং সিরিয়াতে মিলিশিয়াদের অর্থ ও অস্ত্রের যোগান দিয়ে, এবং সিরিয়াতে তাদের নিজস্ব বাহিনী পাঠিয়ে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ প্রশাসনের হাত শক্ত করে এই দুটি দেশে তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে ইরান।
ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভার আরও উন্নত করেছে এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্র উপসাগরের যেকোন জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম। রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনীও দ্রুত তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের নৌ অস্ত্র সম্ভারে যুক্ত করেছে দ্রুত আঘাত হানার এবং মাইন পাতার উপযোগী জাহাজ।
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর উদ্বেগের সংগে সহমত ইসরাইল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তারা ক্রমশই আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে তথাকথিত যৌথ সার্বিক কর্ম পরিকল্পনা (জেসিপিওএ) নামে যে পরমাণু চুক্তি হয়েছিলো, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে ইরান সেই চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার পর এই উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
ইসরায়েল সন্দেহ করে ইরান পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। যা ইরান অস্বীকার করে।