ফিলিপাইনে শক্তিশালী টাইফুন 'রাই'য়ের প্রভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭৫ এ দাঁড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও অর্ধশতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৫০০ মানুষ।
বৃহস্পতিবার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৯৫ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে সাগর থেকে দ্বীপপুঞ্জটির স্থলভাগে উঠে আসে 'রাই।' এর তাণ্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অন্তত ৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
ত্রাণ তৎপরতা জোরদার হলেও যোগাযোগ ও বৈদ্যুতিক লাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। টাইফুন রাই ফিলিপিন্স দ্বীপপুঞ্জ ছেড়ে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে এগিয়ে গেছে। রাইয়ের প্রভাবে ভিয়েতনামে প্রবল ঝড়ো হাওয়া সহ বৃষ্টি হচ্ছে।
ভারি বৃষ্টি ও প্রচণ্ড বাতাসের কারণে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রেডক্রস কেন্দ্রীয় কমিটি চেয়ারম্যান রিচার্ড গর্ডন এক বার্তায় বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল কমিউনিটি ভবন- কোনো কিছুই অক্ষত নেই।’
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপাইনের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন দ্বীপ বোহল। দ্বীপটিতে মারা গেছেন মোট ৭৪ জন। সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন বোহলের গভর্নর আর্থার ইয়াপ।
এছাড়া, টাইফুনের কারণে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে সিয়ারগাও, দিনাগাত ও মিন্দানাও দ্বীপেও। ঝড়ো বাতাস, প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসে বিদ্যুৎ ও মোবাইল টাওয়ার উপড়ে যাওয়া ও সড়গুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ।
উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে ফিলিপিন সরকার। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের কয়েক হাজার সদস্য যোগ দিয়েছেন এই তৎপরতায়।
ফিলিপাইনে বর্ষাকাল থাকে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। বেশিরভাগ টাইফুন এই সময়েই হয়ে থাকে। তবে রাই আঘাত হেনেছে এমন সময়ে, যখন দেশটিতে বর্ষাকাল শেষ হয়েছে প্রায় দু’মাস আগেই।
বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ুগত দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর একটি হলো ফিলিপাইন। প্রতিবছর গড়ে ২০টি টাইফুন দেশটির বিভিন্ন অংশে আঘাত হানে। তবে দেশটির জলবায়ুবিদরা জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের এযাবৎকালের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন রাই।