ভারতে দ্রুতগতিতে বাড়ছে দারিদ্র ও চরম বৈষম্যের দিকে। ২০২১-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনইকোয়ালিটি রিপোর্ট’ বলছে, ভারতের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পুঁজিপতির সিন্দুকে রয়েছে ৫৭ শতাংশ মানুষের মোট আয়ের সমপরিমাণ সম্পদ। নিচুতলার ৫০ শতাংশ মানুষকে দেশের মোট আয়ের মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়েই দিন চালাতে হচ্ছে খেয়ে না খেয়ে। বিশ্ব ক্ষুধা তালিকায় বিশ্বের ১১৭টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০৩। নারীদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আরও প্রকট।
২০২১ সালে ফোর্বস পত্রিকায় প্রকাশিত সম্পদশালীদের তালিকায় দেখা যাচ্ছে করোনার এই বিপর্যয়ের মধ্যেও দেশের প্রথম সারির ধনকুবেরদের সম্পদ এক বছরে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। করোনার থাবায় অর্থনীতির সংকট তীব্র এবং সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি ধ্বংস হয়েছে, চাকরি নেই কোটি কোটি মানুষের।
ইউনাইটেড নেশন ইউনিভার্সিটির একটি সমীক্ষা বলছে, বিশ্ব ব্যাঙ্ক নির্ধারিত দারিদ্রসীমার সংজ্ঞা (দৈনিক প্রায় দুশো তেতাল্লিশ রূপিতে পরিবারের সকলের জীবনধারণ) অনুযায়ী ভারতের ৬০ শতাংশ (প্রায় ৮১ কোটি ২০ লক্ষ) মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন। লকডাউনের পরবর্তী পর্যায়ে তা পৌঁছে গেছে প্রায় ৯২ কোটিতে।
পশ্চিমবঙ্গেও বাড়ছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা
পশ্চিমবঙ্গের তিন ভাগের এক ভাগ পরিবার অপুষ্টির শিকার। এখনও ৬১ শতাংশের বেশি পরিবার রান্নার গ্যাসের বদলে কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করেন। ১০০টি-র মধ্যে ৪৭টি পরিবারের পাকা বাড়ি নেই। শতকরা ৩২টি পরিবারের বাড়িতে নিজস্ব শৌচাগার নেই। এই সমস্ত মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকার জন্য রাজ্যের ২১.৪ শতাংশ মানুষকে নীতি আয়োগ দরিদ্র বলে চিহ্নিত করেছে। (তথ্য সূত্র; গণদাবী, কলকাতা)