জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি উত্তর কোরিয়া। উল্টো এই কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে তারা- এমন অভিযোগ করেছে খোদ জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের ঐ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রিপ্টো কারেন্সির প্ল্যাটফর্মে সাইবার হামলা চালিয়ে অর্থ চুরি করে তা পরমাণু কর্মসূচিতে ব্যয় করছে দেশটি। এভাবে দেশটি ২০২১ সালে তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে আরও গতি এনেছে। ঐ প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
রোববার উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের গোপন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এতে বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্রিপটোকারেন্সি ফার্ম ও এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা।
উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে ২০২০ থেকে ২০২১ সালে সাইবার হামলা চালিয়ে মোট পাঁচ কোটি ডলার চুরি করেছে দেশটি। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষনকারী প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচির পেছনে আনুমানিক ২শ' কোটি ডলার খরচ করেছে যার যোগান এসেছে বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলা ও হ্যাকিংএর আয় থেকে।
নানা আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকলেও কোনোভাবেই দমানো যাচ্ছে না উত্তর কোরিয়াকে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। তবে দারিদ্র্যপীড়িত দেশটিতে অত্যাধুনিক সব ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন এসেছিলো।
জাতিসংঘ বলছে, সাইবার হামলার অর্থ দিয়েই পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞাও টলাতে পারছে না তাদের।
জাতিসংঘের গোপন ওই প্রতিবেদনটি নিরাপত্তা পরিষদের উত্তর কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞা কমিটির কাছে জমা পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরমাণু সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি গণবিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের জন্যই প্রকল্প চালিয়েছে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধামকি সত্ত্বেও গেল মাসে ছোট বড় মোট সাতটি ক্ষেপনাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং।