ইউক্রেন থেকে ২৮ নাবিক সুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরতে পারাকে বাংলাদেশের জন্য বিরাট কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অলভিয়া বন্দরে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের মধ্যে আটকে পড়েছিল ২৮ নাবিক। তাদেরকে দ্রুততম সময়ে ফিরিয়ে আনতে পারা দেশের ধারাবাহিক ইতিবাচক কূটনীতির আরেকটি উদাহরণ বলে মন্তব্য তাদের।
এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সেই সাথে এর প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত হওয়ার উচিত বলে মত তাদের।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে ২৯ জন নাবিক নিয়ে ইউক্রেনে নোঙর করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার কথা ছিল জাহাজটির। এখন থেকে ১২ দিন আগে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে আটকা পড়ে জাহাজটি। গত ২ মার্চ জাহাজটিতে রকেট হামলা হয়। তাতে প্রাণ হারান ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান।
এ ঘটনার পরই বন্দর থেকে বাকি নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুরু হয় কূটনৈতিক যোগাযোগ। পরে ইউক্রেন সরকারের সাহায্যে রোমানিয়ায় পাঠানো হয় নাবিকদের। পরে সেই দেশ থেকেই বিমানপথে নিরাপদে দেশে পৌঁছায় জাহাজের নাবিকরা।
এত অল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধরত একটি দেশ থেকে ২৮ জন নাবিককে দেশে ফেরত আনাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সফল কূটনীতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, গত এক দশক ধরে যে সাফল্য আমরা দেখেছি, তার আরেকটি বহিঃপ্রকাশ ঘটলো।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফায়েজ আহমেদ বলেন, আমি মনে করি, সরকার যথেষ্ঠ চেষ্টা করছে। যেসব বাংলাদেশি যুদ্ধের মধ্যে সেখানে আটকা পড়ে গেছে, তাদেরকে নিরাপদে উদ্ধার করতে পারা সরকারের একটি বড় অর্জন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকার পরও কেন জাহাজটি ইউক্রেনে গেলো তা নিয়ে কারো গাফলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত হওয়া দরকার বলে মত দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফায়েজ আহমেদ বলেন, এটার একটা তদন্ত হওয়া উচিত যে ওই জাহাজটা তখন ওইখানে যাওয়ার কথা ছিল কি না। কীভাবে গেল, নিষেধ করা হয়েছিল কিনা, সেসব বিষয়ে যদি কাউকে দায়ী পাওয়া যায়, তবে তাদেরকে সে ব্যাপারে শাস্তি দেওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে চিন্তভাবনা করে দেখা যেতে পারে।
রকেট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ক্ষতিপূরণ আদায় করার ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া দরকার বলেও মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।