মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা সহিংসতাকে ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ওয়াশিংটনের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল জাদুঘর পরিদর্শনের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এ স্বীকৃতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, হলোকাস্ট (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের ওপর গণহত্যা) ছাড়াও বিশ্বে সাতটি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ অষ্টম গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়া হলো। কারণ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন বলে আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।
এর আগে গত রবিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া, রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য মিয়ানমার সরকারকে জবাবদিহিতায় আনতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরও বেগবান করবে ওয়াশিংটন।
ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা মিয়ানমার সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিল।
উল্লেক্ষ্য, রোহিঙ্গাদের উপরে হামলা শুরুর পর থেকেই দেশটির ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশটিতে সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে আনাসহ আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের হামলা থেকে বাঁচতে প্রায় সাড়ে দশ লাখ মানুষ বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।