শ্রীলংকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধসহ নানা প্রতিবাদের মুখে দেশটিতে জরুরী অবস্থা জারি করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘেরাও করার একদিন পর শুক্রবার রাজাপাকসে এই সিদ্ধান্ত নেন। বিক্ষোভ দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দিতে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। খবর এনডিটিভির।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে হঠাৎ করেই ব্যাপক অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় শত ভাগ শিক্ষিত দেশে এ বছর কাগজ সংকটের কারনে পরীক্ষা দিতে পারেনি দেশটির শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ দিন যাবত ক্ষোভ বিরাজ করছে মানুষের মাঝে। এই ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাচ্যুতির দাবিতে পরিনত হয়েছে। এই কারণে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে সেনাবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছেন তিনি। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং বিনাবিচারে দীর্ঘ সময় আটক করে রাখতে পারবে অআইন শৃংখলাবাহিনী।
প্রেসিডেন্ট এক ঘোষণায় বলেন, ‘জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ও পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ’
২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপ দেমটি ১৯৪৮ যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে কষ্টদায়ক অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে এবং বিদ্যুতের ঘাটতি চরমে উঠেছে।
পুলিশ শুক্রবার পশ্চিম প্রদেশে রাতের কারফিউ আবার জারি করেছে। এর মধ্যে রাজধানী কলম্বোও রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি ব্যস্ত মোড়ে শখানেক অধিকারকর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় তারা হাতে স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড এবং তেলের বাতি বহন করছিল।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি