খাদ্য ও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের পর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে শনিবার সন্ধ্যা থেকে ৩৬ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
সরকার বিরোধী ব্যাপক সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে। এই ঘটনায় গত শুক্রবার ৫৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সাথে পাঁচজন ফটো-সাংবাদিককে আটক করে থানায় নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে দেশটির স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। খবর বিবিসির।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব থেকে এই মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার বন্ধের জন্য ‘টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশ পালন করা হচ্ছে বলে মোবাইল ফোনের মেসেজ জানানো হয়েছে।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সামরিক বাহিনী তলব করেন। তার আগে গত বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানী কলম্বোতে সান্ধ্য আইন জারি আছে। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া রাস্তা, পার্ক, ট্রেন বা সমুদ্রতীরে থাকতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে।
দুইদিন আগে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বাসভবনের আশপাশে গড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক সহিংসতার পর এসব ব্যবস্থা নেওয়া হলো। সহিংসতার ঘটনায় গত শুক্রবার ৫৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, পাঁচজন ফটো-সাংবাদিককে আটক করে থানায় নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রচুর বৈদেশিক ঋণ ও কোভিড মহামারির কারণে পর্যটনে ধসের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। জ্বালানি আমদানির জন্য অর্থ না থাকায় বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময়ে বিদ্যুৎ থাকছে না। জ্বালানি ছাড়াও খাদ্য এবং ওষুধপত্রেরও অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।