পাকিস্তানের রাজনীতির ইতিহাসে অনাস্থা ভোটের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর একমাত্র খলনায়ক ইমরান খান। এর আগে ১৯৮৯ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও ২০০৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তবে তারা দু’জনই অনাস্থা ভোটে জিতে ক্ষমতায় টিকেছিলেন। কিন্তু পারলেন না ইমরান খান। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নানা কৌশল প্রয়োগ করেও শেষ রক্ষা হলো না তার। অবশেষে হারতেই হলো ইমরানকে।
প্রায় পার পেয়েগিয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু বাধ সাধে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তার বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে খারিজ করে দেন স্পীকার। ঘোষণা দেন নতুন নির্বাচন হবে দেশে। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ অনাস্থা প্রস্তাবকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিষয়টি সুরাহার নির্দেশ দিলে প্রধানমন্ত্রী পদে ইমরানের টিকে থাকার সব কৌশল ব্যর্থ হয়। শনিবার স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১২টার দিকে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি শুরু হয়। এর কিছু সময় পর ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়। অনাস্থা প্রস্তাবে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১৭৪টি। ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে প্রস্তাবটি পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট। আর এরই মাধ্যমে পতন হয় ইমরান খানের। জিয়ো নিউজের এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।
৩ বছর ৭ মাস ২৩ দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ইমরান খান। ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ১৪৯ আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসে তার দল পিটিআই। তখন পিএমএল-কিউ, এমকিউএম-পি ও বিএপির সঙ্গে জোট গড়ে সরকার গঠন করেছিলেন ইমরান।
ইমরান খান ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয় ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল। আর এর মধ্য দিয়ে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান হয়। সব মিলে ইমরান খান ১ হাজার ৩৩২ দিন ক্ষমতায় ছিলেন। ২০১৮ সালের যেদিন (১৮ আগস্ট, ২০১৮) তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেদিন ছিল শনিবার। আর তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব হারালেন ১০ এপ্রিল রোববার (শনিবার দিবাগত রাত)।
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া এ নেতা ৪৩ মাস ২৩ দিন ক্ষমতায় টিকে ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের কোন সরকারই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। তবে এর আগে অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নেয়নি কেউ। পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়কের খেলার মাঠে অনেক রেকর্ড থাকলেও রাজনীতিতে অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নেওয়ার রেকর্ডের একমাত্র মালিক তিনি।