রাজনীতির মাঠ থেকে ইমরান খানকে সোজা বোল্ড আউট করেছেন শাহবাজ শরীফ। কেননা ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের মূল নায়কও তিনি। তার নেতৃত্বেই সাংসদরা ইমরানের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।
ধনী ও ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ার রয়েছে তার। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়েছেন তিনি। জীবনে তিনবার সিএম হয়েছেন, এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হলেন পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী।
বড় ভাই নওয়াজ শরীফের হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতে খড়ি তার। পাকিস্তানের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরীফ। তার পুরো নাম মিয়া মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ। তিনি ঘরোয়া রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি কম। ২০১৮ সাল থেকে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তিন দফায় ১২ বছর ধরে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। প্রদেশটির সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মুখ্যমন্ত্রীও তিনি। প্রথমে ১৯৯৭-১৯৯৯ ও পরবর্তীতে দুই দফায় টানা ২০০৮-২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থানের পর গ্রেফতার হন শাহবাজ ও পরবর্তীতে তাকে সৌদি আরবে নির্বাসিত করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে নওয়াজ শরীফের নাম আসার পর ভাগ্য খুলে যায় শাহবাজের। ২০১৭ সালে পিএমএল-এনের সভাপতি হন তিনি। এর মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৫০ সালে লাহোরে জন্ম নেওয়া শাহবাজ তার ৩৪ বছরের রাজনীতির ক্যারিয়ারে বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন।
পাকিস্তান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ভোটাভুটিতে ১৭৪ জন সদস্য শাহবাজের পক্ষে রায় দিয়েছেন। নির্বাচনী দৌড়ে শাহবাজের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদ কোরেশি। কিন্তু কোরেশিসহ পিটিআইয়ের সব সদস্য অধিবেশন বয়কট করায় শাহবাজ ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান।
সূত্র : জিও নিউজ।