আন্তর্জাতিক

সু চির ৫ বছরের কারাদণ্ড

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি (ফাইল ছবি)
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি (ফাইল ছবি)

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্যু করে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিকে। তার বিরুদ্ধে নানা দূর্নীতির অভিযোগ এনে বিচারের মুখোমুখিও করা হয় তাকে। সবশেষ বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুর্নীতির দায়ে সুচিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মোট ১১টি মামলা চলছে। এর মধ্যে প্রথমটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত এবং কারাদণ্ড পেলেন। গণতন্ত্রপন্থি এই নেত্রীর কারাদণ্ডের রায়ের ব্যাপারে জানেন এমন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রোহিঙ্গাদেরকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে বিতর্কের জন্ম দেওয়া ৭৬ বছর বয়সী অং সান সু চি শান্তিতে নোবেল পায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় এক ডজনের বেশি মামলা দায়ের করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী দেশটির জান্তা সরকার। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে ১৮ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রাজধানী নেইপিদোর জান্তানিয়ন্ত্রিত আদালতেই সেসব মামলার বিচার চলছে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া সবগুলো মামলায় যদি সু চি দোষী সাব্যস্ত হন, সেক্ষেত্রে সবমিলিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হতে পারে। সু চি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ বরাবরই মিথ্যা বলে দাবি করে এসেছেন।

রয়টার্স বলছে, বুধবার রাজধানী নেইপিদোর আদালতে কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই অং সান সু চির বিরুদ্ধে বিচারক রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে ওই সূত্রটি।

বার্তাসংস্থাটির দাবি, নামপ্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি রয়টার্সকে এই তথ্য দিয়েছে। কারণ বন্ধ দরজার পেছনে এই বিচার কার্যক্রম চলছে এবং সঙ্গত কারণেই সেখান থেকে তথ্য প্রকাশের বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এদিকে, কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পরপরই সাজা কার্যকর করতে ৭৬ বছর বয়সী সু চিকে এখন কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে কি-না সেটি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গ্রেপ্তারের পর থেকে সু চিকে একটি অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে।

অবশ্য সু চির রায়ের বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কোনো মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এর আগে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং কোভিড-১৯ প্রোটোকল লঙ্ঘনের মাধ্যমে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ভাঙার দায়ে গত ৬ ডিসেম্বর সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন দেশটির একটি আদালত। সরকারের শীর্ষ পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ১১ মাসের মাথায় তার বিরুদ্ধে দেওয়া প্রথম কোনো রায় ছিল সেটি।

তবে সু চির বিরুদ্ধে এই রায়ের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সেসময় আদালত সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে দুই বছর কমিয়ে দেয় মিয়ানমারের জান্তা সরকার।

পরে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি অং সান সু চিকে আরও চার বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির একটি আদালত। অবৈধ ওয়াকিটকি রাখাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এতে সু চির কারাদণ্ড দাঁড়িয়েছিল ছয় বছরে।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। বন্দি করা হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানোর পর মিয়ানমারের সাবেক শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এটি তৃতীয় কোনো মামলার রায়।

সূত্র: রয়টার্স

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

ইমরান খানকে সংসদ সদস্য পদের অযোগ্য ঘোষণা

কংগ্রেসের নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত

ঘুষ নেওয়ার দায়ে সু চির আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড

আয়ারল্যান্ডের পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরণ, নিহত ১০

থাইল্যান্ডে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

নজিরবিহীন ধাক্কার কবলে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়া : বিশ্বব্যাংক

থাইল্যান্ডে দিবাযন্ত্র কেন্দ্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩৪

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ