আন্তর্জাতিক

বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার কারণে বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন অপশক্তির হুমকি বাড়ছে। তাই জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনকে বহুমাত্রিক ও জটিল পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এজন্য বিশ্বশান্তি মিশনে কর্মরতদের অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণের দরকার রয়েছে। সেই সাথে আধুনিক সরঞ্জামাদিও প্রস্তুত রাখতে হবে। কেননা আগের চেয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রোববার আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বিগত ৩৪ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি শান্তিরক্ষী তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পালন করে আসছেন। আজ সমগ্র বিশ্বে শান্তিরক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বজনবিদিত।

এই অবস্থান নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ মিশনে কার্যকর অংশগ্রহণ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের অবস্থানকে সুসংহত করেছে। একইসঙ্গে সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পিপল পিস প্রগ্রেস-দ্য পাওয়ার অব পার্টনারশিপ- ২০২২ সালের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর তরুণ সদস্যগণ ২১ শতকের বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম। আমরা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে বিশ্বের যেকোন প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদা প্রস্তুত।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ১৬১ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান শেখ হাসিনা। তাদের মধ্যে ২ জন শান্তিরক্ষীর পরিবার ও ১৪ জন আহত শান্তিরক্ষীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ব্লু হেলমেট পরিবারের সদস্য হয়। বাংলাদেশ এখনসর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশ হিসেবে গৌরবের ৩৪ বছর উদযাপন করছে।

এ মুহূর্তে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১২১টি দেশের ৭৫ হাজার ৫১৬ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৬ হাজার ৮২৫ জন শান্তিরক্ষী রয়েছেন যা বিশ্বে নিয়োজিত সর্বমোট শান্তিরক্ষীর নয় দশমিক দুই শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের ৫১৯ জন নারী শান্তিরক্ষী বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪৩টি দেশে ৫৫টি মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ১৩টি মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিভিন্ন মিশনে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার এবং সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দাযিত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা বর্তমানে জাতিসংঘের পিস-বিল্ডিং কমিশনের চেয়ার।

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

ইমরান খানকে সংসদ সদস্য পদের অযোগ্য ঘোষণা

কংগ্রেসের নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত

ঘুষ নেওয়ার দায়ে সু চির আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড

আয়ারল্যান্ডের পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরণ, নিহত ১০

থাইল্যান্ডে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

নজিরবিহীন ধাক্কার কবলে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়া : বিশ্বব্যাংক

থাইল্যান্ডে দিবাযন্ত্র কেন্দ্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩৪

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ