বিদেশি শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে মালয়েশিয়ায়। এতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে দেশটির।
সোমবার (১৩ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া তাদের নাগরিকদের দেশটিতে না পাঠানোয় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, ফেব্রুয়ারিতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত কভিড-১৯ প্রতিরোধের বিধিনিষেধ তুলে নিলেও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মী নিয়োগের সংখ্যা বাড়েনি।
নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এবং কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে শ্রমিক সুরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনায় ধীরগতির কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
রপ্তানি-নির্ভর দেশ মালয়েশিয়া গত কয়েক দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু এ দেশের কারখানা, পাম বাগান এবং পরিষেবা খাত গড়ে উঠেছে মূলত বিদেশি শ্রমিকদের শ্রমের ওপর নির্ভর করে, কারণ মালয়েশীয়রা এসব কাজকে নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টকর কাজ বলে মনে করেন।
মালয়েশিয়ার আয়ের এক চতুর্থাংশ আসে শিল্প খাতের উৎপাদন থেকে। কিন্তু এখন শ্রমিক সংকটে পড়ে এসব শিল্প কারখানার উৎপাদন থমকে আছে। কারখানা মালিকরা শঙ্কায় আছেন, এভাবে ক্রেতা ফেরাতে হলে তারা হয়ত আর মালয়েশিয়ায় ফিরবেন না।
এ মুহূর্তে উৎপাদন, পাম প্ল্যান্টেশন এবং নির্মাণ খাতে অন্তত ১২ লাখ শ্রমিকের ঘাটতিতে রয়েছে মালয়েশিয়া। সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মহামারীর বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় পরিস্থিতি যত স্বাভাবিক হচ্ছে, কর্মী সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ান সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। দুই দেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব আইন মেনে চলতি মাসেই কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।