নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্নকে একের পর এক হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। করোনা মহামারি শুরুর আগে থেকেই এ হুমকি অব্যাহত রয়েছে। তবে মহামারির পর তা কয়েকগুণ বেড়েছে। কখনও টেলিফোনে আবার কখনও অনলাইনে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন জাসিন্দা।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা বিধিনিষেধ ও টিকাবিরোধী আন্দোলন বৃদ্ধির সঙ্গে জাসিন্দার হত্যার হুমকি বৃদ্ধির একটা যোগ রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক পরিসংখ্যান বলছে, ক্ষমতার প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ১৮টি হত্যার হুমকি নথিভুক্ত করে পুলিশ।
২০২০ সালের শুরুরে বিশ্বে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর জাসিন্দার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। ওই বছর তাকে মোট ৩২টি হত্যার হুমকি নথিভুক্ত করা হয়।
স্থানীয় ওই সংবাদমাধ্যম নিউজহাবের সবশেষ তথ্য মতে, ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা হুমকি আগের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেড়েছে। ওই বছর তার বিরুদ্ধে মোট ৫০টি হত্যার হুমকি নথিভুক্ত করে পুলিশ।
নিউজিল্যান্ডে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টানা ২ বছর ধরে কঠোর কিছু বিধিনিষেধ দিয়ে রাখে আরদার্ন সরকার। সরকারের এই নীতি সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কমাতে সাহায্য করেছে। কিন্তু কঠোর বিধিনিষেধ দেশটির অনেককে ক্ষুব্ধ করে। কারণ দীর্ঘদিন তাদের লকডাউন আর আইসোলেশনে থাকতে হয়েছে।
এছাড়া নিউজিল্যান্ডের যেসব নাগরিক দেশের বাইরে থাকেন সীমান্ত বন্ধ থাকায় তারা দেশে ফিরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যেই দানা বাঁধে করোনা বিধিনিষেধ ও টিকাবিরোধী আন্দোলন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা বিধিনিষেধ ও টিকার বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডজুড়ে বড় বিক্ষোভ হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের ওই বিক্ষোভে পার্লামেন্টের বাইরে ট্রাক ও ক্যাম্পারভান দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায় হাজার হাজার মানুষ। কোথাও কোথাও পুলিশের বাধার মুখে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়ে। পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা, তার সরকারের অন্যান্য রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে গণ আদালতে বিচারের দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা। তাদের অভিযোগ, টিকার পক্ষে সরকার ও রাজনীতিকদের এ প্রচারণা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’র পর্যায়ে পড়ে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন মতে, টিকাবিরোধী আন্দোলনের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাসিন্দার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকিও বাড়তে থাকে। পুলিশের তথ্য মতে, টিকাবিরোধী মনোভাব থেকেই বেশিরভাগ হুমকি দেয়া হয়েছে।