চীনের সিচুয়ানে বিরল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক ভাস্কর্যের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রাচীন শ্যু সভ্যতার বলিদানসহ বেশ কিছু রহস্য উন্মোচনেরও দাবি করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। খবর গ্লোবাল টাইমসের।
মাটিতে পড়ে আছে বিরল এক ভাস্কর্যের ধ্বংসাবশেষ। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন সুনিপুণ হাতে। সাবধানতার সঙ্গে চলছে এর উদ্ধারকাজ। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের গুয়ানহান শহরে সানজিংদুই প্রত্নত্বাত্তিক এলাকা থেকে বিরল একটি ভাস্কর্যের বেশ কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন প্রত্নত্বাত্তিকরা।
তারা জানান, ভঙ্গুর ভাস্কর্যটি মূলত অনেক পুরানো একটি পৌরাণিক প্রাণীর। প্রত্নত্বাত্তিকদের ধারণা, কারুকাজ সংবলিত বেদীসহ পাওয়া ভাস্কর্যটি ব্রোঞ্জযুগের। টানা দুইদিন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভাস্কর্যের ধ্বংসাবশেষের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শনটি যে স্থানে পাওয়া গেছে সেখানে এক সময় বলি দেয়া হতো বলে জানান প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে সানজিংদুই প্রত্নত্বাত্তিক এলাকায় বেশ কয়েকটি বলির গর্ত পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ভাস্কর্য পাওয়ার স্থানটিতে প্রাচীন শ্যু সভ্যতার লোকজন নিজেদের সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির আশায় বলিদান করতেন। খননের শুরু থেকে সেখানে ব্রোঞ্জ, স্বর্ণ এবং হাতির দাতঁসহ কয়েক হাজারের প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেই নিদর্শনগুলোর ভেতরে প্রায় আড়াই হাজার ভাস্কর্য সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ছিল বলেও জানানো হয়।
সানজিংদুই এলাকা বিংশ শতাব্দীতে চীনের শীর্ষ ১০ প্রত্নত্বাত্তিক আবিষ্কারের মধ্যে একটি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই এলাকায় পাওয়া শ্যু সাম্রাজ্য প্রায় ৫ হাজার বছর পুরানো। ১৯৮৮ সাল থেকে সানজিংদুই থেকে পাওয়া ধ্বংসাবশেষগুলো উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় সংরক্ষণ করে আসছে চীন সরকার।