বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার অভিযোগে মালয়েশিয়ায় শীর্ষস্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কয়েকটি অফিসে অভিযান চালিয়েছে দেশটির দুর্নীতি-বিরোধী কমিশন (এমএসিসি)।
মালয়েশিয়ার প্রাচীন ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টারের অনলাইন সংস্করণের প্রতিবেদনে ওই ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ না করে বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি ভিসা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করছিল।
এমএসিসি’র চিফ কমিশনার তান সেরি আজম বাকি দ্য স্টারকে বলেন, ‘দাতুক সেরি শ্রেণির ওই ব্যবসায়ীকে সোমবার তলব করা হয়।’
‘কোম্পানিটি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত। কর্মী নিয়োগের সিস্টেম তৈরিতেও তারা জড়িত। ’
আজম জানান, এই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আরও কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে চাওয়া অধিকাংশ কর্মীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে ওই প্রতিষ্ঠান।
কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন এবং রাজনীতিবিদেরা এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়া।
এ ঘোষণার ৯ দিনের মাথায় ১৯ ডিসেম্বর দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। স্মারকের শর্ত অনুযায়ী কর্মীদের বিমান ভাড়াসহ যাবতীয় ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীরা বহন করবে। কিন্তু কর্মী পাঠানো শুরুর আগেই নতুন শর্ত আসে কুয়ালালামপুরের পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার খরচ বাংলাদেশ অংশে ধরা হয়েছে ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন, ২০১৯ সালে ৫৪৫ জন, ২০২০ সালে ১২৫ জন এবং চলতি বছর মাত্র ১৪ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় কর্মী হিসেবে গেছেন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১০ লাখ ৫৭ হাজার ২১৩ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন।